Iran: ইরানে মোল্লাতন্ত্রের অবসান? খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন মহিলারা, বিক্ষোভে উত্তাল
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইরানে ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে প্রতিবাদের ঢেউ। মহিলারা হিজাব ছুড়ে ফেলে, কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে আলি খামেনেই নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। দমন-পীড়নে এর আগে ৫৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কড়া সামাজিক আইন, বাধ্যতামূলক হিজাব এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এবার আরও প্রকাশ্য ও প্রতীকী প্রতিবাদে নেমে পড়েছেন দেশের মহিলারা। নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গিয়েছে, ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন জ্বালিয়ে প্রকাশ্যে সিগারেট ধরাচ্ছেন কয়েকজন মহিলা। এই দৃশ্যকে ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এই প্রতিবাদ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের আইনে শিয়া ধর্মপ্রধান বা সুপ্রিম লিডারের ছবি পোড়ানো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে, জনসমক্ষে মহিলাদের ধূমপান সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে। ফলে খামেনেইয়ের ছবি পুড়িয়ে সেই আগুনে সিগারেট ধরানো—এই দুই নিষিদ্ধ কাজ একসঙ্গে করে প্রতিবাদকারীরা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব এবং নারীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, উভয়কেই প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন।
অর্থনৈতিক সংকট এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দরপতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দামে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন শহরে শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের ছবি পোড়ানো, সরকারি ঘনিষ্ঠ নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে বড় আকারের জমায়েত ও মিছিল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, বর্তমান প্রতিবাদ সেই ধারারই আরও এক ধাপ অগ্রগতি। তখন রাস্তায় নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, যা কঠোরভাবে দমন করে প্রশাসন। এবার প্রতিবাদের ধরন বদলেছে। বড় জমায়েতের বদলে প্রতীকী কর্মকাণ্ডই হয়ে উঠছে প্রতিবাদের প্রধান ভাষা—যা সহজেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের বেড়াজাল এড়িয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সুপ্রিম লিডারের পদটি ইরানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়—দু’দিক থেকেই সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতীক। তাঁর ছবি অবমাননা মানেই রাষ্ট্রের ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করা। সেই সঙ্গে মহিলাদের জনসমক্ষে ধূমপান করে প্রতিবাদ জানানো নারীদের উপর আরোপিত সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের প্রতিবাদ দমন করা প্রশাসনের পক্ষে তুলনামূলকভাবে কঠিন। ছবিগুলি মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশে। ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ফের আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যা তেহরানের জন্য নতুন করে চাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


