Sunday, January 11, 2026
Latestদেশ

India’s household gold: ভারতে পারিবারিক পর্যায়ে সঞ্চিত স্বর্ণের বাজারমূল্য বর্তমানে ভারতের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ সমতুল্য

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের পরিবারগুলোর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টন স্বর্ণ। যা ভারতের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ‘শক অ্যাবজর্বার’ বা অভিঘাত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক বাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রার ওঠানামার মাঝে এই গৃহস্থালি স্বর্ণই ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতার এক নীরব ভিত্তি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের বৃহৎ বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইএফএল ক্যাপিটালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি পর্যায়ে মজুদ থাকা স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর প্রায় ৮০ শতাংশের সমান। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সম্পদের মোট মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গৃহস্থালি স্বর্ণ ভারতের জন্য এক ধরনের আর্থিক বীমার ভূমিকা পালন করছে। এটি একদিকে মুদ্রার মান রক্ষা করতে সহায়তা করছে, অন্যদিকে সংকটকালে পরিবারের আর্থিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ থাকা সত্ত্বেও এর খুব সামান্য অংশই বর্তমানে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণভিত্তিক ঋণের সম্ভাবনা এখনও অনেকটাই অব্যবহৃত রয়ে গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফসি) যদি এই সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও তুলনামূলকভাবে সস্তা ঋণের সুযোগ বাড়বে। আয় কমে যাওয়া বা জরুরি খরচের সময় এটি খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সহায়তা দিতে পারে, তাও আবার পদ্ধতিগত আর্থিক ঝুঁকি না বাড়িয়ে।

২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আরবিআইয়ের বাড়তে থাকা স্বর্ণভান্ডার এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে বিপুল স্বর্ণের উপস্থিতি মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রা রুপির অবমূল্যায়ন ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইআইএফএল ক্যাপিটালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের শক্ত অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধির ফলে নীতিনির্ধারকদের হাতে এখন মুদ্রানীতি পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা এসেছে। এর ফলে বৈদেশিক চাপের মধ্যেও রুপির ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা গৃহস্থালি স্বর্ণকে ‘গোপন মূলধন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এই সম্পদ একদিকে অর্থনৈতিক সংকটে কাজে লাগানো যায়, আবার অন্যদিকে উন্নয়নের সময়ও ধরে রাখা সম্ভব। ভারতের ক্ষেত্রে এই স্বর্ণের কম ব্যবহারই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলছে। নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো গেলে, এই নীরব সম্পদ আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।