Thursday, February 26, 2026
Latestদেশ

ট্রাম্পের চোখরাঙানিকে থোড়াই কেয়ার, সস্তায় রাশিয়া থেকেই তেল কিনবে ভারত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মার্কিন শুল্কবোমার ভারেও দমছে না ভারত। গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্কনীতি। অথচ, ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা থামাচ্ছে না নয়াদিল্লি। নীরব কূটনৈতিক কৌশলেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছে ভারত।

শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি)-র চেয়ারম্যান অরুণকুমার সিং সরাসরি জানিয়ে দেন, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার কোনও সরকারি নির্দেশ নেই। তাঁর সাফ মন্তব্য— “যত দিন লাভজনক থাকবে, তত দিন আমরা রাশিয়ার তেল কিনে যাব।”

ওএনজিসির অধীনস্থ দুই সংস্থা— হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এইচপিসিএল) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস (এমআরপিএল)— ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। বছরে ৪ কোটি টন তেল পরিশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে এই দুই সংস্থার। শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই নয়, শোধিত তেলের একাংশ পশ্চিমা বাজারেও রপ্তানি করে ভারত।

মার্কিন চাপ বনাম রুশ ছাড়

প্রথমে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায় ট্রাম্প প্রশাসন। পরবর্তীতে রুশ তেল আমদানির ‘অপরাধে’ আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়। ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। কিন্তু এর মধ্যেই নয়াদিল্লি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য রাশিয়া থেকে বিপুল অঙ্কের তেলের বরাত দিয়েছে।

এর নেপথ্যে অন্যতম কারণ— সম্প্রতি উরাল ক্রুডে ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ছাড়, যা কার্যত ৫ শতাংশ মূল্যহ্রাস। এই সাশ্রয় ভারতের জন্য লাভজনক, এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামলাতে তা কার্যকর বলেই মনে করছে তেল সংস্থাগুলি। 

নতুন অক্ষশক্তির ইঙ্গিত?

শুল্ককূটনীতির এই অচলাবস্থার মধ্যে শুক্রবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে থাকবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জন উনও। ফলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার শুল্কচাপের বিপরীতে এক নতুন শক্তি-সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

ওএনজিসির স্পষ্ট বার্তাই বলে দিচ্ছে— মার্কিন শুল্কচাপকে অগ্রাহ্য করেই রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসা জারি রাখবে ভারত। একদিকে ওয়াশিংটনের চোখরাঙানি, অন্যদিকে মস্কোর সস্তা তেলের হাতছানি— এই দুইয়ের মাঝেই কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে চাইছে দিল্লি।