Rafale: আরও ১১৪টি রাফায়েল কিনবে ভারত, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ভারত–ফ্রান্স, যন্ত্রাংশ তৈরি হবে দেশেই
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স একটি বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আইএএফের ফাইটার স্কোয়াড্রনের ঘাটতি পূরণে আরও রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর ভারত সফরের সময় এই আলোচনা আরও গতি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকার-থেকে-সরকার (G2G) কাঠামোর আওতায় আইএএফ ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক রাফায়েল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই ‘মেগা প্রজেক্ট’-এর লক্ষ্য অন্তত ১১৪টি আধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, প্রথমে এই প্রস্তাবের অনুমোদন নেওয়া হবে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর কাছ থেকে। এরপর হবে দাম নিয়ে আলোচনা এবং সবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর চূড়ান্ত অনুমোদন।
গত বছর নৌবাহিনীর জন্য ২৪টি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির পর, এবার বায়ুসেনার জন্য এই নতুন চুক্তির আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ইউরো হতে পারে বলে অনুমান। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের সামরিক বিমান শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় পদক্ষেপ।
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাফায়েল যুদ্ধবিমানের ঘরোয়া উৎপাদন। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটবে। গত বছরের জুন মাসে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) এবং ফ্রান্সের ডাসল্ট অ্যাভিয়েশনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় ভারতে রাফায়েল বিমানের ফিউজলাজ তৈরি হবে। হায়দরাবাদে একটি বিশেষ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে শুধু ভারতের চাহিদাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্যও রাফালের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ফিউজলাজ অংশ তৈরি হবে।
এই ইউনিট থেকে প্রথম ফিউজলাজ বেরোনোর সম্ভাবনা ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে। পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলে বছরে প্রায় ২৪টি ফিউজলাজ তৈরির সক্ষমতা থাকবে এই কারখানার। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাফালের ইঞ্জিন উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে ভারতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। হায়দরাবাদেই তৈরি হচ্ছে ইঞ্জিন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, আর উত্তরপ্রদেশের জেওয়ারে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি আধুনিক মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (MRO) হাব।
এই সমস্ত প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর হলে, রাফায়েল যুদ্ধবিমানের মোট উৎপাদন মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশই ভারতে থাকবে বলে অনুমান। ফলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য আসবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
কারিগরি দিক থেকে রাফায়েল একটি ‘অমনি-রোল’ যুদ্ধবিমান। একই সঙ্গে আক্রমণ, নজরদারি এবং প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এই বিমানের। এতে রয়েছে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল এবং স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল, যার সমতুল্য প্রযুক্তি বর্তমানে চিন বা পাকিস্তানের কাছেও নেই। রাফালের অত্যাধুনিক ‘স্পেকট্রা’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম শত্রুপক্ষের রাডার জ্যাম করতে এবং আসন্ন মিসাইল হামলা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।
এছাড়াও, নিজের ওজনের প্রায় দেড় গুণ অস্ত্র ও জ্বালানি বহন করতে পারে রাফায়েল। ফলে লাদাখের মতো উচ্চ-উচ্চতা ও চরম শীতপ্রধান এলাকাতেও এই যুদ্ধবিমান অনায়াসে অভিযান চালাতে পারে।
সব মিলিয়ে, উন্নত যুদ্ধক্ষমতা ও দেশীয় উৎপাদনের সমন্বয়ে রাফায়েল যুদ্ধবিমান আগামী দিনে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মত প্রতিরক্ষা মহলের।


