Friday, February 13, 2026
Latestরাজ্য​

ভক্তদের ভোগান্তি দূর করতে দিঘায় হোটেল নির্মাণ করছে হিডকো

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নকে সামনে রেখে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করছে শাসকদল তৃণমূল। সেই আবহেই দিঘায় বড়সড় হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা নিল হিডকো (HIDCO)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে দুটি দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি।

গত বছর এপ্রিল মাসে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথধামের উদ্বোধন করেন। পুরীর মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দির দ্রুতই পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। গত ডিসেম্বরে আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে। সমুদ্রসৈকত ও জগন্নাথ দর্শনের যুগলবন্দিতে দিঘায় পর্যটকের ঢল নামে। ফলে পর্যাপ্ত হোটেলের অভাবে চরম সমস্যায় পড়তে হয় ভ্রমণার্থীদের।

এই পরিস্থিতিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই উদ্যোগী হয়েছে হিডকো। সংস্থার প্রকাশিত প্রথম দরপত্রে জানানো হয়েছে, দিঘার পশ্চিম গদাধরপুর মৌজায় ৩৪টি প্লটে হোটেল নির্মাণ করা হবে। মোট জমির পরিমাণ ৬.৮৮ একর। দ্বিতীয় দরপত্রে ১২টি প্লটের উল্লেখ রয়েছে, যার আয়তন ২.২৯ একর। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই প্রকল্প।

সূত্রের খবর, আগামী ১৮ মার্চ ‘ই-অকশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরপত্র চূড়ান্ত করা হবে। তবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত রাখা হয়েছে। গত তিন আর্থিক বছরে প্রত্যেক বছরে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার লেনদেন রয়েছে এমন সংস্থাই কেবল ই-অকশনে অংশ নিতে পারবে।

হিডকোর চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, জগন্নাথধাম নির্মাণের পর দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে পর্যটকদের শোষণ করছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে হিডকো এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, হোটেল নির্মাণে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং পুরো প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫ বছর। উল্লেখ্য, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর নিউ টাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’ এবং শিলিগুড়িতে ‘মহাকাল মন্দির’ নির্মাণের দায়িত্বও পেয়েছে হিডকো।

পর্যটন ও ধর্মীয় পর্যটনের সমন্বয়ে দিঘাকে নতুনভাবে সাজানোর এই উদ্যোগ নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।