Sunday, January 18, 2026
Latestদেশ

Har ki Pauri: পৌরি ঘাটে ‘হিন্দু ছাড়া প্রবেশ নিষেধ’, সাইনবোর্ড হরিদ্বারে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: হরিদ্বারের হর কি পৌরি ও সংলগ্ন ঘাট এলাকায় ‘অহিন্দু প্রবেশ নিষেধ ক্ষেত্র’ লেখা পোস্টার টাঙানো হয়েছে। এমনই সময়ে এই ঘটনা সামনে এল, যখন শোনা যাচ্ছিল হরিদ্বারের পবিত্রতা রক্ষায় অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে উত্তরাখণ্ড সরকার।

জানা যাচ্ছে, হর কি পৌরি ও সংলগ্ন ঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গঙ্গা সভাই এই পোস্টার টাঙিয়েছে। শুধুমাত্র গঙ্গা মন্দির চত্বর নয়, হর কি পৌরি সংলগ্ন একাধিক এলাকায়—ব্রিজের রেলিং, পিলার-সহ বিভিন্ন প্রবেশপথে এই নিষেধাজ্ঞামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে। শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে হর কি পৌরি এবং মালব্য দ্বীপে ড্রোন উড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিল তৈরিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গঙ্গা সভার তরফে জানানো হয়েছে, হরিদ্বারের পবিত্রতা ও ধর্মীয় শুদ্ধতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।

প্রসঙ্গত, ১৯১৬ সালের হরিদ্বার পুরসভা আইন অনুসারে হর কি পৌরি অঞ্চলে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে এতদিন সেই আইন কার্যকর করা হয়নি। হঠাৎ করে কেন তা কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

আগামী বছর অর্ধকুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে হরিদ্বারে। তার আগেই হর কি পৌরি এলাকায় অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গঙ্গা সভা বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্য সরকারও।

এর মধ্যেই একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়, দু’জন তরুণ আরব মুসলিমদের মতো পোশাক পরে হর কি পৌরিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক আরও উসকে যায়। যদিও পরে জানা যায়, ওই দুই তরুণ আদপে হিন্দু এবং নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলের শুটিংয়ের জন্যই ওই পোশাক পরেছিলেন।

এই ঘটনার পর গঙ্গা সভার পক্ষ থেকে সমস্ত সরকারি বিভাগ, বিভিন্ন সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তাদের অহিন্দু কর্মীদের হর কি পৌরি ও সংলগ্ন এলাকায় না পাঠানো হয়। গঙ্গা সভার দাবি, এলাকার ধর্মীয় পরিবেশ ও শুদ্ধতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ।

এই সিদ্ধান্ত ও পোস্টার ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অর্ধকুম্ভের আগে হরিদ্বারে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় কি না, সে দিকেই এখন নজর।

এদিকে এই পদক্ষেপ ঘিরে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে কোনও এলাকায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়। বিরোধীদের দাবি, বিষয়টি সংবিধানসম্মত কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।