India–GCC FTA: পশ্চিম এশিয়ার ৬টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে ভারত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার পর এবার পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement বা FTA) করার পথে দ্রুত এগোচ্ছে ভারত। উপসাগরীয় সহযোগিতামূলক পর্ষদ (GCC)-র সঙ্গে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইন—এই ছ’টি দেশকে নিয়ে গঠিত জিসিসি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে এই দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭,৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার জিসিসি-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা জিসিসি-র ছ’টি দেশে শুল্ক ছাড়াই পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাবেন। ফলে বস্ত্র, গয়না, খাদ্যশস্য, কৃষিজ পণ্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রীর রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যশস্য উৎপাদক দেশ, অন্যদিকে জিসিসি দেশগুলো জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ।” তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত যেমন দীর্ঘমেয়াদি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভারতের বিশাল কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের বাজারের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
এই বাণিজ্য চুক্তিকে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্স ভারতের এই বহুমুখী বাণিজ্য নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, “ভারতের পক্ষে শুধু আমেরিকার বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলে আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের এই তৎপরতা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বা স্ট্র্যাটেজিক অটোনমিকে আরও জোরদার করল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত একদিকে যেমন বিকল্প বাজার ও জ্বালানি উৎস সুনিশ্চিত করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে নিজের স্বাধীন অবস্থানও আরও স্পষ্ট করছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের সূত্রে খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভারত ও জিসিসি-র মধ্যে চূড়ান্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


