ছত্তিশগড়ের সুকমায় আত্মসমর্পণ করলেন ৪ মাওবাদী, মাথার দাম ছিল ৮ লাখ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় শুক্রবার ৪জন মাওবাদী নেতা–নেত্রী আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে দু’জন মহিলা। এই চারজনের মাথার উপর মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ৮ লক্ষ টাকা। শুক্রবার তারা অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানিয়েছেন বাস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীরা মাওবাদীদের দক্ষিণ বাস্তার ডিভিশনের অন্তর্গত কিস্তারাম এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজ্য সরকারের ‘পুনা মার্গেম’ উদ্যোগের আওতায় তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। নকশাল নেতারা পুলিশের কাছে জানান, সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতিতে তারা প্রভাবিত হয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে এরিয়া কমিটির সদস্য সোধি যোগার মাথার উপর পুরস্কার ছিল ৫ লক্ষ টাকা। বাকি তিনজন—ডাবর গঙ্গা ওরফে মাদকাম গঙ্গা, সোধি রাজে এবং মাডভি বুধারি—প্রত্যেকের মাথার উপর ১ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ছিল। তাদের কাছ থেকে একটি ইনসাস রাইফেল, একটি সিঙ্গল লোডিং রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, একটি .৩১৫ রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই আত্মসমর্পণের পেছনে সুকমা ও অলুরি সীতারাম রাজু জেলার পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি সুন্দররাজ। তাঁর মতে, কিস্তারাম ও গোলাপল্লি এলাকায় নতুন নিরাপত্তা শিবির স্থাপন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক ও কার্যকর নকশাল-বিরোধী অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে নকশালদের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়েছে।
পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা শিবিরগুলির ফলে মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটছে। আত্মসমর্পণকারী নকশালদের সরকারি নীতি অনুযায়ী পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চাভান এখনও সক্রিয় নকশালদের হিংসার পথ ত্যাগ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার তাঁদের নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করবে।
এই সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণের ফলে চলতি বছরে ছত্তিশগড়ে এখনও পর্যন্ত ২০০-রও বেশি মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


