Sunday, March 1, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

East India Company: ফের অস্তিত্ব সংকটে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, দেউলিয়া ঘোষণা করে সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এ যেন ইতিহাসের এক অদ্ভুত বাঁক। যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একসময়ে বাণিজ্যের অজুহাতে ভারতে এসে প্রায় দু’শো বছরের শাসনের ভিত গড়ে তুলেছিল, সেই নামধারী ব্রিটিশ সংস্থা আবারও কার্যত অস্তিত্ব সংকটে। কোম্পানিটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঔপনিবেশিক শাসন থেকে খুচরো বিলাসবহুল ব্যবসা

১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে বাণিজ্য সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, ধীরে ধীরে ভারতের বিশাল অংশে শাসনক্ষমতা কায়েম করে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি শাসনভার গ্রহণ করলে কোম্পানির প্রথম দফায় অবসান ঘটে।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ সালে আবারও ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামটি ফিরে আসে বাজারে। এক ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতার হাত ধরে লন্ডনের মেফেয়ারে প্রায় ২,০০০ স্কোয়ার ফুট জায়গাজুড়ে খোলা হয় বিলাসবহুল খাবার ও পানীয়ের দোকান। উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিক ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে তুলে ধরা—একটি প্রিমিয়াম হোলসেল ও রিটেল ভেঞ্চার হিসেবে।

প্রতিশোধের অনুভূতি’

ঔপনিবেশিক ইতিহাসবাহী একটি সংস্থা কেন একজন ভারতীয় কিনলেন—এই প্রশ্নে বিতর্কও কম হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জীব মেহতা বলেন, “একবার আমার জুতোয় পা গলিয়ে দেখুন। আমার কাছে এটা একসময়ের শাসকের কোম্পানি কিনে নেওয়ার মতো। অনুভূতিটা প্রতিশোধের মতো—এটা বলে বোঝানো যাবে না।”

এই বক্তব্যে ইতিহাসের প্রতীকী পালাবদলের ইঙ্গিত থাকলেও, ব্যবসায়িক বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে।

ঋণের বোঝা ও পতনের মুখে

কোম্পানির আর্থিক নথি অনুযায়ী, প্যারেন্ট সংস্থা ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপ’-এর কাছে প্রায় ৬ লক্ষ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় ৭.৫ কোটি টাকা) বকেয়া রয়েছে। কর বাবদ প্রায় ১,৯৩,৭৮৯ পাউন্ড এবং কর্মীদের প্রাপ্য প্রায় ১,৬৩,১০৫ পাউন্ড এখনও পরিশোধ বাকি। মোট ঋণের পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার কাছাকাছি।

লন্ডনের ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে অবস্থিত পুরনো দোকান এখন খালি। সংস্থার ওয়েবসাইটও আর সক্রিয় নয়। নাম–বহনকারী অন্যান্য শাখা সংস্থাগুলিও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আবার কি ‘ফিনিক্স’ প্রত্যাবর্তন?

ইতিহাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান যেমন নাটকীয় ছিল, পতনও তেমনই প্রতীকী। ১৮৫৭–এর পরে যেমন একবার ঝাঁপ পড়েছিল, তেমনি ২১শ শতকে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ব্র্যান্ড–ভ্যালু থাকলেও ঔপনিবেশিক অতীতের ভার এবং আর্থিক দুর্বলতা মিলিয়ে এই সংস্থার আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এক সময় যে কোম্পানি বাণিজ্যের নামে সাম্রাজ্য গড়েছিল, আজ সেই নামই ইতিহাসের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসে আবারও বাজারে নাম লিখিয়েছিল যে সংস্থা, তার ঝাঁপ চিরতরে পড়তে চলেছে—এ যেন উপনিবেশের স্মৃতির ওপর সময়ের চূড়ান্ত সিলমোহর।