Asaduddin Owaisi: ‘হিজাব পরা মহিলাই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন’, চ্যালেঞ্জের সুরে বললেন ওয়াইসি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন এআইএমআইএম সুপ্রিমো ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, “একদিন হিজাব পরা মহিলাই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।” তার দাবি, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণার রাজনীতি করছে এবং মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
ওয়াইসির অভিযোগ, বিজেপি সরকার একদিকে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছে, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর প্রচার করছে, তিন তালাক নিষিদ্ধ করেছে—অন্যদিকে মুসলিম মহিলাদের সম্ভ্রম ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরোধিতা করছে। তার বক্তব্য, “যে হিজাবকে আজ ঘৃণা করা হচ্ছে, সেই হিজাব পরা মহিলাই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান সেটার অনুমতি দেয়।”
পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা টেনে ওয়াইসি বলেন, “পাকিস্তানের সংবিধানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বাইরে কাউকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু ভারতের সংবিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনও নাগরিক হিজাব পরা মহিলা হলেও মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তার কথায়, “এই দেশ পাকিস্তান নয়। এখানে ঘৃণার কোনও জায়গা নেই।”
ওয়াইসির এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশের মতে, নির্বাচনের মুখে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক একজোট করতেই এ ধরনের বক্তব্য রাখছেন এআইএমআইএম প্রধান। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন দেশের জনবিন্যাস, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং জন্মহারের মতো বিষয় নিয়ে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জনসংখ্যা সংক্রান্ত আশঙ্কার কথা বলতে শোনা গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ওয়াইসির বক্তব্য শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং তা বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি আদর্শগত পাল্টা বার্তা। তবে অন্য অংশের প্রশ্ন, এই ধরনের মন্তব্য কি সমাজে মেরুকরণ আরও তীব্র করছে? কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন তুলছেন, এই বক্তব্য কি শুধুই সাংবিধানিক অধিকারের কথা, না কি এর আড়ালে রয়েছে বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক বা আদর্শগত বার্তা? ওয়াইসি কী ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’র ডাক দিচ্ছেন? উঠছে প্রশ্ন।


