Dalai Lama: গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ভূষিত হলেন দলাই লামা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আধ্যাত্মিকতা ও সংগীতের এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংগীত পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস। ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে সম্মানিত হলেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা চতুর্দশ দলাই লামা। নবতিপর এই ধর্মগুরু অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট।
জানা গেছে, দলাই লামা পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর অডিও প্রজেক্ট ‘Meditation: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama’-এর জন্য। এই অডিও রেকর্ডিংয়ে দলাই লামার শান্তি, করুণা ও আত্মচিন্তার বাণীর সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে। শ্রোতাদের মানসিক প্রশান্তি ও আত্মঅনুসন্ধানের পথে নিয়ে যাওয়াই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এই বিভাগে প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত কঠিন। মনোনীতদের তালিকায় ছিলেন জনপ্রিয় সঞ্চালক ও কৌতুকশিল্পী ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, আলোচিত পপ ব্যান্ড মিলি ভানিলি এবং শিল্পী ফ্যাব মরভ্যান। তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে দলাই লামার এই আধ্যাত্মিক অডিও প্রজেক্ট গ্র্যামির মঞ্চে বিশেষ স্বীকৃতি পেল।
পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুফাস ওয়েনরাইট বলেন, “দয়াময়তা ও আত্মনির্ভরতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি কাজে দলাই লামার সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার কাছে গর্বের বিষয়। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।”
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৫৯ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিব্বতের দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন দলাই লামা। সেই সময় থেকেই ভারত তাঁর দ্বিতীয় ঘর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, তাঁকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। বেজিং দলাই লামাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করলেও, এই আধ্যাত্মিক নেতা বরাবরই ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসেছেন।
গ্র্যামির মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলাই লামার এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র এক ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি, সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

