Sunday, February 8, 2026
Latestরাজ্য​

শূন্যের খরা কাটাতে ওয়াইসির মিমকে ফোন সিপিএমের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ঘরে-বাইরে চাপের মুখে কার্যত কোণঠাসা সিপিএম। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ, হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক অধ্যায়ও অতীত! এই পরিস্থিতিতে এবার মিম (AIMIM)-এর সঙ্গে যোগাযোগের খবরে নতুন করে আলোচনায় বাম শিবির।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির তরফে মিম নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সভায় থাকার কারণে তখন কথা বলা সম্ভব হয়নি, তবে সিপিএম কী চাইছে তা জানতে তিনি আগ্রহী। কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ যেখানে ডাকা হবে, সেখানেই বসে আলোচনা করতে রাজি মিম নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্টির রাজ্য সম্পাদকের সবুজ সংকেত ছাড়া মিমের সঙ্গে জোট নিয়ে কোনও সিপিএম নেতার ফোন করা সম্ভব নয়। ফলে এই উদ্যোগ সেলিমের সম্মতিতেই হয়েছে বলে বামেদের একাংশ মনে করছে। তবে প্রকাশ্যে এই ফোনের কথা অস্বীকার করেছেন মহম্মদ সেলিম। তার দাবি, বিভিন্ন ‘জঞ্জাল’কে সিপিএমের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে মিম ইতিমধ্যেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। এর আগেও জনতা ইউনাইটেড পার্টি গঠনের পর হুমায়ুন কবীর মিমের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সিপিএমের তরফে ফোন যাওয়ার খবর রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই ঘটনায় অস্বস্তি বেড়েছে বামফ্রন্টের শরিকদের মধ্যেও। প্রশ্ন উঠছে—মুর্শিদাবাদে কখনও কংগ্রেস, কখনও হুমায়ুন, আবার এখন মিম—এভাবে বারবার জোটসঙ্গী খোঁজার কারণ কী? একা সিপিএম সেখানে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবে না বলেই কি নতুন শরিকের সন্ধান?

এদিকে, এই সুযোগে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “সিপিএম রাজনৈতিক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ভিক্ষাপাত্র হাতে ঘুরছে। একা মুরোদ নেই যত বড় বড় কথা। হুমায়ুনের মন বুঝতে গিয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। ১৪ ফেব্রুয়ারি আসছে, সেলিম মন বুঝতে ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে কাজে লাগাচ্ছে।”

অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ ৫০টি আসনে লড়াইয়ের দাবি তোলায় বামফ্রন্টে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে চাপ বাড়ছে সিপিএমের উপর। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই সমস্ত জটিলতার নিষ্পত্তি করতে চাইছে বাম নেতৃত্ব।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—মুর্শিদাবাদ ও মালদহে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ কি আদৌ কোনও জোটে টিকে থাকবে, নাকি এই দোদুল্যমান অবস্থাই আরও দুর্বল করবে সিপিএমকে?