Char Dham Rail Project: চারধামকে রেলপথে জুড়ছে কেন্দ্রীয় সরকার
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের চার পবিত্র তীর্থ—কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনেত্রী—মিলিয়ে পরিচিত চারধাম। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে এই চারধামে পৌঁছন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই যাত্রার অন্যতম বড় সমস্যা ছিল কঠিন যাতায়াত ব্যবস্থা। সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চারধামকে রেলপথে যুক্ত করার উদ্যোগে জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে ভারতীয় রেল।
উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে চারধামের সরাসরি রেল সংযোগ গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম এই চারধাম রেল প্রকল্প, যা পাহাড়ের বুক চিরে নির্মিত হচ্ছে।
রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৩২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেরাদুন ও কর্ণপ্রয়াগ হয়ে গঙ্গোত্রী, যমুনেত্রী, বদ্রীনাথ ও কেদারনাথকে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। আপাতত ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের কাজ প্রায় শেষের দিকে।
এই রেললাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টানেল নির্মাণ। জানা যাচ্ছে, ঋষিকেশ- কর্ণপ্রয়াগ রুটের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার অংশ অন্তত ১৬টি টানেলের মধ্য দিয়ে যাবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হচ্ছে ১২টি নিষ্কাশন টানেল ও একাধিক ক্রস প্যাসেজ। এই লাইনে ১৪.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রধান রেলওয়ে টানেলের কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়াও শ্রীনগর গড়ওয়াল, গোচর ও কালেশ্বর এলাকাকে সংযুক্ত করার জন্য যে মোটর সেতুগুলি নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেগুলির কাজও শেষ হয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, এই রেলপথ মেট্রো রেলের আদলে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলেও নিরাপদ ও মসৃণ যাত্রা সম্ভব হয়।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেরাদুন, তেহরি, পাউরি গড়ওয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি ও উত্তরকাশীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে এই রেললাইন নির্মাণ ভারতীয় রেলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, যাত্রীস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলমন্ত্রকের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ হলে খুব শীঘ্রই চারধাম রেলপথে যুক্ত হবে। ফলে চারধাম যাত্রা আরও নিরাপদ, সহজ ও আরামদায়ক হবে, পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের পর্যটন ও অর্থনীতিতেও বড়সড় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


