বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ করছে পর্তুগাল, আইন অমান্য করলে ৪,০০০ ইউরো জরিমানা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এবার জনসমক্ষে নিকাব ও বোরকা পরা নিষিদ্ধ করলো পর্তুগাল। পর্তুগালের পার্লামেন্টে এই সম্পর্কিত বিল পাস হয়েছে।
বিলটি উত্থাপন করে অতি দক্ষিণপন্থী চেগা পার্টি। দলটির নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা দাবি করেছেন—“এটি নারী স্বাধীনতা ও জাতীয় মূল্যবোধ রক্ষার পদক্ষেপ।” তাঁর ভাষায়, “আজ আমরা আমাদের মেয়েদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করেছি। কেউ যেন আর বাধ্য না হয় মুখ ঢেকে রাখতে।”
বিলের মূল প্রস্তাব
শুক্রবার পাস হওয়া বিল অনুযায়ী,
- জনসমক্ষে নিকাব বা বোরকা পরলে ২০০ থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
- কাউকে নিকাব পরতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- তবে উড়োজাহাজ, কূটনৈতিক প্রাঙ্গণ ও উপাসনালয়ে নিকাব পরা অনুমোদিত থাকবে।
আইনি প্রক্রিয়া এখনও বাকি
বিলটি এখনও কার্যকর হয়নি। এটি এবার সংসদীয় কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য যাবে। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুজা চাইলে এ বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন, কিংবা সাংবিধানিক আদালতে পাঠাতে পারেন আরও বিশ্লেষণের জন্য।
সমর্থন ও বিরোধিতা
পার্লামেন্টের বামপন্থী নারী আইনপ্রণেতারা বিলটির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এটি সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক।
তবে মধ্য-ডানপন্থী জোটের সমর্থনে শেষ পর্যন্ত বিলটি পাস হয়। ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা আন্দ্রেয়া নেটো বলেন, “এটা নারী-পুরুষ সমতার প্রশ্ন। কোনো নারীকে তাঁর মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়।”
বিতর্কে নিরপেক্ষ দলগুলো
পার্লামেন্টের ১০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২টি—পিপল-অ্যানিমেলস-নেচার পার্টি এবং টুগেদার ফর দ্য পিপল পার্টি—ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। তাদের মতে, এই প্রস্তাব বৈষম্য ও সামাজিক বিভাজনকে উসকে দেবে।
ইউরোপে বাড়ছে বোরকা-নিকাববিরোধী আইন
এর আগে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস–এর মতো ইউরোপীয় দেশগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিকাব নিষিদ্ধ করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


