Brigade Bhagavad Gita Path: রাত পোহালেই বিগ্রেডে ৫ লাখ কন্ঠে গীতাপাঠ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দান সাক্ষী হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশের। ৭ ডিসেম্বর, রবিবার সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’। আয়োজকদের দাবি, শুধু বাংলায় নয়, ভারতের ইতিহাসেও এত বৃহৎ আকারের সমবেত গীতাপাঠ এই প্রথম। ফলে নয়া রেকর্ড হতে চলেছে।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন কার্তিক মহারাজ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী এলে আমাদের বিশেষ আনন্দ হবে।”
রাজ্যে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আবহেই এই বৃহৎ সমাবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কার্তিক মহারাজ বলেন, “ভোটের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। সমাজে যে অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে আত্মিক চর্চাই প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই গীতাপাঠের আয়োজন।”
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ বহু যুগ ধরেই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র। সেই প্রেক্ষিতেই মঠ-মন্দির, আশ্রম, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে এই বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের আশা, গীতার মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, স্থিতি এবং আধ্যাত্মিকতার নতুন বার্তা পৌঁছাবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন গীতা মণীষী মহামণ্ডলের স্বামী জ্ঞানানন্দজী মহারাজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পদ্মভূষণ সাধ্বী ঋতম্বরা। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে থাকবেন যোগগুরু বাবা রামদেব এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন বাগেশ্বরধাম সরকারের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।
স্বামী প্রদীপ্তনন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, ‘বিভাজনের আবহে আত্মিক সাধনাই মানুষের ভিতর স্থিরতা আনে, পথ দেখায়। রাজ্যের হাজার-হাজার গীতা অনুরাগী ইতিমধ্যেই সমবেত পাঠে অংশগ্রহণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।’
এদিকে সমাবেশ ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্রিগেডের কেন্দ্রস্থলে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল মূল মঞ্চ, যেখান থেকে প্রতিধ্বনিত হবে পাঁচ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে গীতার শ্লোকপাঠ। বিপুল জনসমাগম সামলাতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আগেই জোরদার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৯টায়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আধ্যাত্মিক জাগরণে ভরে উঠবে ব্রিগেড, আর রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস—‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর।


