Monday, December 15, 2025
Latestদেশ

‘আলিনগর হবে সীতানগর’, বিহারের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হলেন মৈথিলী ঠাকুর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ঝড়। নজর কাড়লো আলিনগর আসনে মৈথিলী ঠাকুর। আলিনগরে প্রথমবারের মতো জয় পেল বিজেপি, আর সেই জয়ের নায়িকা জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে জয়ী হয়ে তিনি হলেন বর্তমান বিহারের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক।

সংগীতের মঞ্চ থেকে রাজনীতির অঙ্গনে

ছোটবেলা থেকেই সংগীতেই বড় হয়েছেন মধুবনীর কন্যা মৈথিলী। মাত্র ৪ বছর বয়সে সংগীত শিক্ষা শুরু। পরিবারই তাঁর প্রথম পাঠশালা—বাবা ও দাদার কাছেই হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত, তবলা ও হারমোনিয়ামের প্রাথমিক রীতি শেখেন তিনি।

৬ বছর বয়সেই তাঁর গলায় লোকসংগীতের ঝঙ্কার ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরে ব্যতিক্রমী প্রতিভা বুঝে বাবা তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যান। ১০ বছর বয়স থেকেই জাগরণ ও বড় মঞ্চগুলোতে নিয়মিত পারফর্ম করা শুরু করেন মৈথিলী।

সঙ্গীত রিয়েলিটি শো মাতিয়েছেন মৈথিলী 

  • ১১ বছর: সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পস
  • ১৫ বছর: ইন্ডিয়ান আইডল জুনিয়র
  • ১৬ বছর: আই জিনিয়াস ইয়াং সিঙ্গিং স্টার—এখানে চ্যাম্পিয়ন

পরে অংশ নেন রাইজিং স্টার-এ এবং অল্পের জন্য রানার্সআপ হন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রতিরোধ্য উত্থান

ফেসবুক-ইউটিউবে তাঁর মিউজিক ভিডিও ভাইরাল হতে থাকে। দুই ভাই ঋষভ ও আয়াচির সঙ্গে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশে-বিদেশে বিশাল ফ্যানবেস তৈরি করেন।

মধুবনী জেলা প্রশাসন ২০১৯ সালে তিন ভাইবোনকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করে।

তাঁকে সম্মান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও—‘লোকমত সুর জ্যোৎস্না জাতীয় সংগীত পুরস্কার’ এবং ‘অটল মিথিলা’ সম্মান পান তিনি।

মৈথিলীর গানে মধুবনী চিত্রকলার থিম ও মোটিফ যুক্ত হওয়ায় লোকসংস্কৃতির প্রচার পেয়েছে নতুন গতি।

রাজনীতিতে যোগদান ও ঐতিহাসিক জয়

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিজেপিতে যোগ দেন মৈথিলী। প্রথমবারেই আলিনগর আসনের প্রার্থী হন এবং এবার ভোটে জয়লাভ করলেন। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেছেন—“এটি আমার কাছে স্বপ্নের মতো। মানুষ আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখব। এই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছি—জনগণের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”

এই আসনটি গত দেড় দশক ধরে মহাগঠবন্ধনের ঘাঁটি ছিল—

  • ২০১০ ও ২০১৫: আরজেডির আব্দুল বারি সিদ্দিকী
  • ২০২০: ভিআইপি-র মিশরি লাল যাদব

কিন্তু ২০২৫ সালে সেই দুর্গ ভেঙে দিল বিজেপির—মৈথিলী।

আলিনগরে ব্রাহ্মণ, মুসলিম, যাদব, মাল্লাহ এবং পাসোয়ান—এই পাঁচ প্রধান জনগোষ্ঠী রয়েছে। এত বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার সমর্থন পেয়েই নতুন প্রতীক হিসেবে উঠে এলেন মৈথিলী।

মৈথিলীর প্রতিশ্রুতি

  • স্কুলে মিথিলা পেইন্টিং-কে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা
  • আলিনগরের নাম পরিবর্তন করে সীতানগর রাখা হবে
  • মেয়েদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন

মধুবনী থেকে বিধানসভা

লোকসংগীতের মঞ্চ থেকে রাজনীতি—দুই জগতেই এখন সমান জনপ্রিয়তা মৈথিলী।