গান্ধীনগর পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়, আসন বাড়ালো কংগ্রেসের, খাতা খুলতে পারল না আপ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: গুজরাটের গান্ধীনগর পুরসভা নির্বাচনে ফের নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে, গত নির্বাচনের তুলনায় আসন ও ভোটের হার বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস। তবে একটি আসনও জিততে পারেনি আম আদমি পার্টি (আপ)।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লোকসভা কেন্দ্র গান্ধীনগরের পুরসভা নির্বাচন গুজরাটের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের প্রশাসনিক রাজধানী গান্ধীনগর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১২ সালের আগে এই পুরসভায় কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। পরবর্তীকালে বিজেপি সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করে।
গান্ধীনগর পুরসভার মোট ১১টি ওয়ার্ডে আসনসংখ্যা ৪৪। এবারের নির্বাচনে তার মধ্যে ৩৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস পেয়েছে পাঁচটি আসন। বাকি একটি আসনে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী।
ভোটের হারেও দুই প্রধান দলের অগ্রগতি দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫২ শতাংশ। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫৬.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ভোটের হার ২৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবে আপের ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোটের হার ছিল ১৩.৯১ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৩৬ শতাংশে। পুরসভার কোনও আসনেই জয় পায়নি দলটি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আপের ৩২ জন প্রার্থীর প্রত্যেকেই জামানত হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই ফলাফলকে গান্ধীনগরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুনরুত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে বিজেপি নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে আধিপত্য বজায় রেখেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসও ভোটের হার ও আসনসংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে, আপের ভোটের হার কমে যাওয়া গুজরাটের শহরাঞ্চলে দলটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, আগামী দিনে গুজরাটের অন্যান্য নির্বাচনে এই ফলাফলের কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

