মোদী-শাহর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে আসবেন যোগী-হিমন্ত-কঙ্গনা- স্মৃতি ইরানি- হেমা মালিনী-মনোজ তিওয়ারিরা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (২০২৬ West Bengal Assembly Election 2026) -এর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলার রাজনৈতিক ময়দান গরম হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বড়সড় প্রচার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) । ভোটের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসংযোগ বাড়াতে ৪০ জনের ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ তালিকা প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি—সবাইকে একসঙ্গে ময়দানে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) , যাঁকে ঘিরেই বিজেপির মূল প্রচার কৌশল সাজানো হয়েছে। তাঁর জনসভা ও রোডশো সাধারণত বিপুল জনসমাগম টানে, যা নির্বাচনী আবহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে দল। তাঁর পরেই রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) , যিনি সংগঠন মজবুত করা এবং বুথ স্তরে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা (J. P. Nadda)- ও এই প্রচারের মূল স্তম্ভ।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। নিতিন গডকড়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অশ্বিনী বৈষ্ণব, স্মৃতি ইরানি এবং অনুরাগ ঠাকুরের মতো নেতারা বিভিন্ন জেলা ভাগ করে নিয়ে প্রচার চালাবেন। তাঁদের মাধ্যমে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিজেপি।
রাজ্যের বাইরে থেকেও একাধিক মুখ্যমন্ত্রীকে আনা হচ্ছে প্রচারের ময়দানে, যা এই নির্বাচনে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) -এর হিন্দুত্ববাদী ইমেজ, অসমের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) -র সংগঠন দক্ষতা এবং রাজস্থানের ভজনলাল শর্মা (Bhajan Lal Sharma) -র প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা—এই সবকিছুকে কাজে লাগাতে চাইছে দল। বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁদের জনসভা ও প্রচার কর্মসূচি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে এবারের প্রচার তালিকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes) । আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতের উজ্জ্বল মুখ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে বিজেপি। ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি বিনোদন জগত থেকেও একাধিক পরিচিত মুখকে সামনে আনা হয়েছে— কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut), হেমা মালিনী Hema Malini) এবং মনোজ তিওয়ারি (Manoj Tiwari)। এঁদের উপস্থিতি প্রচারে বাড়তি গ্ল্যামার যোগ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আকর্ষণও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)-ও এই প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির নেতাদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ—এই তিনজনের ওপরেই রাজ্যের মাটিতে সংগঠন শক্তিশালী করার বড় দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল এবং শান্তনু ঠাকুরের মতো নেতাদেরও বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক স্তরে শমীক ভট্টাচার্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তীর মতো নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
৫ এপ্রিল কোচবিহার থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভা দিয়েই এই হাইভোল্টেজ প্রচারের সূচনা হচ্ছে। এর পর ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক সভা, রোডশো এবং জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। বিজেপির কৌশল স্পষ্ট—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা, ভিন রাজ্যের নেতাদের উপস্থিতি এবং সেলিব্রিটি ফ্যাক্টর—এই তিনকে একসঙ্গে ব্যবহার করে বাংলার ভোটারদের কাছে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের আঞ্চলিক আবেগ এবং শক্তিশালী সংগঠনের মোকাবিলায় এই ‘মাল্টি-লেয়ার’ কৌশল নিয়েছে বিজেপি। এখন দেখার, তারকা সমাবেশে সাজানো এই প্রচার কতটা কার্যকর হয় এবং বাংলার ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে।


