‘সমকক্ষ হিসেবে কথা বলুন, চাকরের মতো নয়’, ট্রাম্পকে কটাক্ষ রাহুলের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: লোকসভায় বাজেট অধিবেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি (interim trade deal) ঘিরে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই চুক্তি প্রকৃত অর্থে ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ নয়, বরং “প্রি-কমিটেড পারচেজ” যা পারস্পরিকতার মূল ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও একই সুরে মন্তব্য করেছেন।
“সমকক্ষ হিসেবে কথা বলুন, চাকরের মতো নয়”
রাহুল গান্ধী বলেন, যদি INDIA জোট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসত, তাহলে তারা তিনটি বিষয় স্পষ্ট করত।
প্রথমত, তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি আপনার ডলারকে সুরক্ষিত রাখতে চান। আমরা আপনার বন্ধু, আমরা সেটা বুঝি। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার ডলারকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে বড় সম্পদ রয়েছে ভারতীয় জনগণের কাছে- ডেটা। যদি এই ডেটায় প্রবেশাধিকার চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে সমকক্ষ হিসেবে কথা বলতে হবে, চাকরের মতো নয়।”
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও জানান রাহুল। মার্কিন চাপের মুখে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, “যাই হোক না কেন, ভারত তার এনার্জি সিকিউরিটি রক্ষা করবে।”
তৃতীয়ত, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা বুঝি, আপনার একটি কৃষিভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। কিন্তু আমাদেরও কৃষক আছেন, তাঁদের সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব। সমান হিসেবে কথা হোক। আমাদের পাকিস্তানের সমকক্ষ করে দেখা যাবে না।”
‘কমিটেড’ থেকে ‘ইনটেন্ডস’
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ফ্যাক্ট শিট। প্রথম সংস্করণে বলা হয়েছিল, ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন জ্বালানি, আইসিটি, কৃষিপণ্য, কয়লা ইত্যাদি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেখানে “committed” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে সংশোধিত ফ্যাক্ট শিটে “pulses” বা ডালশস্যের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং “committed” শব্দের বদলে “intends” ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভাষা কিছুটা নরম করা হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারত স্বেচ্ছায় নিজের বাণিজ্যিক দর-কষাকষির ক্ষমতা খর্ব করেছে। রাহুল গান্ধী লোকসভায় বলেন, কেন্দ্র এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষার বদলে একতরফা সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাজেট অধিবেশন ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সংসদ মুলতুবি থাকবে এবং ৯ মার্চ পুনরায় বৈঠক শুরু হবে, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের অনুদান দাবির বিষয়গুলি স্থায়ী কমিটি খতিয়ে দেখতে পারে।


