Tuesday, February 3, 2026
Latestদেশ

‘SIR-এ হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়, আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ’, মমতাকে পাল্টা হুঁশিয়ারি কমিশনের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: SIR ইস্যুতে সরগরম দিল্লি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে। এদিন নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কমিশন তাকে অপমান করেছে। তবে মমতার প্রকাশ্য অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের চাপ, বাধা বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল (AITC) একটি প্রতিনিধিদল কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন ও বক্তব্য তুলে ধরেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বা আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

তবে ওই বিবৃতিতেই মমতার অভিযোগের পাল্টা হিসেবে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যে কমিশন এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন ও হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ইআরও (এসডিও/বিডিও)-দের অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের উপর কোনও ধরনের চাপ, বাধা বা হস্তক্ষেপ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিএলওদের জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার টাকার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনও রকম পরামর্শ না করেই রাজ্য সরকার তিনজন নির্বাচনী তালিকা পর্যবেক্ষককে বদলি করেছে। এই বদলি আদেশ বাতিল করার জন্য কমিশন ২৭.০১.২০২৬ তারিখে অনুরোধ জানালেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

কমিশনের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্য সরকার চারজন নির্বাচনী আধিকারিক—দু’জন ইআরও, দু’জন এআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার কথা বললেও, সেই বিষয়েও এখনও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, নির্বাচন সদনে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর এবং তৃণমূল প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আচরণকে ‘জমিদারি মানসিকতা’ বলেও কটাক্ষ করেন। তবে সেই অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে নির্বাচন কমিশন নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকল।