Monday, February 2, 2026
Latestদেশ

Elon Musk: বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গেল ভারত, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে’, মন্তব্য ইলন মাস্কের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সর্বশেষ তথ্য উদ্ধৃত করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, “The balance of power is changing”—অর্থাৎ ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে।

ইলন মাস্ক একটি চার্ট শেয়ার করেন, যা IMF-এর জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চার্টে ২০২৬ সালে বিশ্বের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ অবদানকারী দেশের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও বেশি অবদান রাখতে চলেছে বৈশ্বিক বৃদ্ধিতে।

চার্ট অনুযায়ী, চিন ও ভারত মিলিয়ে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ৪৩.৬ শতাংশ জোগান দেবে। এককভাবে ভারতের অবদান ধরা হয়েছে ১৭ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্পষ্ট করে।

রিপোর্টে দেখা গেছে, আমেরিকাকে ছাপিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বিশ্বের জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব ১৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা আমেরিকার অংশীদারিত্ব ৯.৯ শতাংশ। তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের যোগদান ২৬.৬ শতাংশ। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), নাইজেরিয়া (১.৫%), ব্রাজিল (১.৫%), ভিয়েতনাম(১.৬%), সৌদি আরব (১.৭%), জার্মানি (০.৯%)।


ইলন মাস্কের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিরতা ও বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা করা কড়া শুল্ক নীতির ফলে চিন ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাস্কের শেয়ার করা তথ্য বিশ্ব অর্থনীতির শক্তিকেন্দ্রের পূর্বমুখী সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

IMF-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.২ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য বেশি। এই উন্নতির পিছনে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শক্তিশালী বিনিয়োগ, আর্থিক ও রাজস্ব নীতিতে সহায়তা, অনুকূল আর্থিক পরিবেশ এবং বেসরকারি খাতের স্থিতিস্থাপকতাকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।

তবে রিপোর্টে সতর্কতাও রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর বৃদ্ধির প্রত্যাশা পুনর্মূল্যায়ন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে IMF। পাশাপাশি, যদিও বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রে IMF জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জন্য বৃদ্ধির হার ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে শক্তিশালী গতি এই সংশোধনের কারণ। তবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ভারতের বৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, কারণ সাময়িক ও চক্রাকার সহায়ক কারণগুলি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হবে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, চিনে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে নিম্ন স্তর থেকে বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ভারতে ২০২৫ সালে খাদ্যদ্রব্যের দাম কম থাকায় মুদ্রাস্ফীতিতে তীব্র পতনের পর তা ফের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে বলে অনুমান IMF-এর।

সব মিলিয়ে, IMF-এর তথ্য ও ইলন মাস্কের মন্তব্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের গুরুত্ব যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে তুলছে।