Sunday, January 18, 2026
Latestখেলা

U19 World Cup 2026: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টসের পর বাংলাদেশের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না ভারত অধিনায়ক আয়ুষ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্কের পরিচিত তিক্ততার ছায়া এবার ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটেও পড়লো। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে (U19 Cricket World Cup) ভারত বনাম বাংলাদেশের ম্যাচে টসের সময় সৌজন্যের করমর্দন হলো না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার টস জেতার পর বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরারের সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। প্রথা অনুযায়ী টসের পর দুই অধিনায়কের একে অপরের সঙ্গে হাত মেলানোর কথা থাকলেও, আয়ুষ নিঃশব্দে সরে যান। অন্যদিকে, আবরারের দিক থেকেও করমর্দনের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। ম্যাচ রেফারি ডিন কস্কারের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে, যা মাঠে উপস্থিত দর্শক ও ক্রিকেট মহলের নজর এড়ায়নি।

উল্লেখ্য, এদিন বাংলাদেশের মূল অধিনায়ক আজিজুল হাকিম উপস্থিত থাকতে না পারায় টসের সময় দলের নেতৃত্বে ছিলেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টসে জিতে বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ম্যাচ শুরুর আগের এই সৌজন্যহীন মুহূর্তই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনা আকস্মিক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপড়েনের মতোই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও রাজনৈতিক উত্তাপের প্রভাব পড়ছে খেলাধুলায়। এর আগে এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সিনিয়র দল পাকিস্তানকে এড়িয়ে গিয়েছিল।

এবার তারই প্রতিফলন অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও দেখা গেল বলে দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর লাগাতার হামলার অভিযোগ, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি—সব মিলিয়ে ক্রিকেট মাঠে তার প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এছাড়া, টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যেতে বাংলাদেশের অনীহা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিসিসিআই, বিসিবি ও আইসিসি-র মধ্যে চলা টানাপড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আয়ুষ মাত্রে একা সিদ্ধান্ত নেননি; বরং এর মাধ্যমে বিসিসিআই-এর তরফে এক ধরনের পরোক্ষ ‘কড়া বার্তা’ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের একটি ম্যাচও আর শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না। ক্রীড়াক্ষেত্র ছাপিয়ে এই ম্যাচ এখন দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।