Saturday, January 10, 2026
Latestরাজ্য​

ED Raid I-PAC: তদন্তে বাধা, হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইডি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কলকাতায় আইপ্যাকের অফিসে ইডির অভিযানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। এই অভিযানের মধ্যেই নজিরবিহীনভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তল্লাশি চলাকালীন কয়েকটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসেও যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেখান থেকেও বেশ কিছু নথি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘ওই সব নথি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কাগজপত্র, তাই সেগুলি তিনি নিয়ে এসেছেন।’

তবে এখানেই আপত্তি তোলে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন এইভাবে নথি সরিয়ে নেওয়া তদন্তে বাধা দেওয়ার সামিল। এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে খবর। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

এদিকে এই ঘটনার পর দিল্লির ইডি দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালে দিল্লিতে দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ৬টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ইডির দাবি, এই অভিযানের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কার্যালয়ের কোনও সম্পর্ক নেই।

ইডি বিবৃতিতে বলেছে, কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তৃণমূলের আইটি সেলের দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চালিয়ে দলের প্রার্থী তালিকা-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই অভিযোগ নস্যাৎ করে ইডির দাবি, তল্লাশির কাজ আইন মেনেই করা হচ্ছিল এবং সেই কাজে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতা ছিল। ইডির আরও বক্তব্য, এই তল্লাশির সঙ্গে ভোট বা কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর দলের নির্বাচনী রণকৌশল চুরি করার চেষ্টা করেছে। তবে ইডির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাক অফিসে ঢুকে নথি নিয়ে বেরিয়েছেন, তা তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি। এখন সব নজর শুক্রবারের সম্ভাব্য শুনানির দিকে।