Sunday, January 11, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

Shamima Begum: শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় ব্রিটেন সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর)। তবে এই আন্তর্জাতিক আদালতের পদক্ষেপ সত্ত্বেও নিজেদের আদালতের রায় বহাল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারের একটি সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।

ইসিএইচআর শামীমা বেগমের মামলাটি তদন্তের আওতায় নেওয়ার আহ্বান জানালেও যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, দেশটির একাধিক আদালত ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিয়েছে। সরকারের ওই সূত্রের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না।

শামীমা বেগম ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৌঁছে এক আইএস জঙ্গিকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তার বয়স ২৬ বছর।

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের দাবি ছিল, শামীমা বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রাইব্যুনালও সেই যুক্তিকে সমর্থন করে।

তবে শামীমা বেগমের আইনজীবীদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি মানবপাচার ও যৌন শোষণের শিকার হয়েছিলেন কি না—সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, ‘১৫ বছর বয়সী একটি শিশুকে প্রলুব্ধ করে এবং ধোঁকা দিয়ে আইএসআইএল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। একই সঙ্গে তাকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাজ্যের ব্যর্থতার ইতিহাসও উপেক্ষা করা যায় না।’

ইসিএইচআর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিলের সময় তৎকালীন মন্ত্রীরা শামীমা বেগম পাচারের শিকার কি না এবং তার প্রতি যুক্তরাজ্যের কোনো দায়বদ্ধতা রয়েছে কি না—তা বিবেচনা করেছিলেন কি না।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ইসিএইচআর-এর একটি নথিতে জানানো হয়, শামীমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে—যেখানে দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ—নিজের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তাকে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি না দেওয়ার পরই ইউরোপীয় আদালতে এই মামলা করা হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সূত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। এই সিদ্ধান্ত দেশীয় আদালতগুলোয় বারবার যাচাই করা হয়েছে এবং প্রতিবারই বহাল রাখা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

উল্লেখ্য, ব্রিটেনে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন ৯০ লাখ বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়-সহ বিভিন্ন দেশের বংশোদ্ভুত মুসলিমরা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি