‘বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে’, ইউনূস সরকারের কাছে ৪ দফা দাবি হাদির সংগঠনের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশে। রবিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচি থেকে ভারত-বিরোধী সুরে একাধিক দাবি তোলা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
ইনকিলাব মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৪ দফা দাবি। প্রথম দাবিতে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের কাজের অনুমতি বাতিল করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে আরও কড়া অবস্থান নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ভারত যদি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাংলাদেশে ফেরত না দেয়, তবে দিল্লির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত। চতুর্থ দাবিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, যারা পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের চাকরিচ্যুত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এই ৪ দফা দাবির মধ্যে আগামী ২৪ কর্মদিবসের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান দাবি। পাশাপাশি বাকি তিনটি দাবিও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নিশ্চিত করতে হবে।”
শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘিরে যে দাবিগুলি তোলা হয়েছে, তা দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


