Monday, January 19, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে হিন্দু যুবক খুনের প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হিন্দুদের; সভায় খালিস্তানি হামলা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে শনিবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দুরা। বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে একদল খালিস্তানি সমর্থকের হামলার অভিযোগ ওঠে, যার জেরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা যখন হাতে প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, সেই সময় একদল খালিস্তানি সমর্থক সেখানে উপস্থিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। খবর পেয়ে লন্ডন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাদের মতে, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার খবর আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছানো ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে এই ‘ন্যারেটিভ হাইজ্যাকিং’-এর চেষ্টা করা হয়েছে। হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদত রয়েছে বলেও গোয়েন্দা মহলের একাংশের অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি স্তরে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবাদের সময় ও স্থান আগে থেকেই জানা থাকায় পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল মূল বিষয় থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়া এবং বিক্ষোভকে হিংসাত্মক রূপ দেওয়া। এই ঘটনার পর লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয় ও হিন্দু সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হাইকমিশন চত্বরে শান্তি বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দিনে ওই এলাকায় কোনও বড় জমায়েত হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা দেওয়া বা হিংসা ছড়ানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘গ্লোবাল হিন্দু ফেডারেশন’ এবং ‘ইউকে হিন্দু কাউন্সিল’। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলা সহিংসতার প্রতিবাদ জানানো গণতান্ত্রিক অধিকার। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, খালিস্তানি প্রক্সিদের ব্যবহার করে এই প্রতিবাদ স্তব্ধ করার চেষ্টা উদ্বেগজনক। সংগঠনগুলি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, বিদেশের মাটিতে এই ধরনের উগ্রবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

লন্ডনের এই ঘটনা প্রবাসী মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলতে গেলে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবাদ দমনের এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসঙ্কেত।