Navi Mumbai Airport: অপেক্ষার অবসান, নাভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হলো বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মুম্বাই মহানগরী অঞ্চলে (MMR) যুক্ত হলো দ্বিতীয় বিমানবন্দর। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়ান শুরু করল নাভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (NMIA)। প্রথম উড়ান ছিল ইন্ডিগোর হায়দরাবাদগামী বিমান। একই দিনে বেঙ্গালুরু থেকে আসা ইন্ডিগোর বিমান ছিল বিমানবন্দরের প্রথম আগমন। বিমানটিকে জলকামান স্যালুটে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে নাভি মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ উড়ান চালাবে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাসা এয়ার, ইন্ডিগো ও স্টার এয়ার। শুরুতে প্রতিদিন মোট ২৪টি নির্ধারিত ডিপারচার থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে পরিষেবা আরও বাড়ানো হবে।
বর্তমানে এই বিমানবন্দরের অপারেশনাল ক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ১০টি বিমান ওঠানামা করার। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সরাসরি পরিষেবা শুরু করেছে। ইন্ডিগো জানিয়েছে, নাভি মুম্বাই থেকে তাদের উড়ান যুক্ত হবে ১৩টি শহরের সঙ্গে—এর মধ্যে রয়েছে আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, কোচি, দিল্লি, হায়দরাবাদ ও লখনউ।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলোক সিং বলেন, “নাভি মুম্বাই আমাদের ডুয়াল-এয়ারপোর্ট কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (CSMIA)-এর পাশাপাশি এখান থেকেও আমরা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়ান জোরদার করবো।”
অন্যদিকে, আকাসা এয়ার নাভি মুম্বাই থেকে গোয়া, দিল্লি, কোচি ও আহমেদাবাদের সঙ্গে সংযোগকারী উড়ান চালু করেছে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিনয় দুবে জানান, ভবিষ্যতে আকাসা এয়ারের সবচেয়ে বড় অংশের বহর ও অপারেশন নাভি মুম্বাই বিমানবন্দরকেন্দ্রিক হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটি এখান থেকে সাপ্তাহিক ৩০০টি অভ্যন্তরীণ ও ৫০টি আন্তর্জাতিক উড়ান চালানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে পরিষেবা বাড়াবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের দিকেও নজর রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ৮ অক্টোবর নাভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিমানবন্দর বছরে প্রায় ২ কোটি যাত্রী পরিষেবা দিতে সক্ষম হবে। ফলে বছরে ৫ কোটিরও বেশি যাত্রী সামলানো ব্যস্ত CSMIA-এর উপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে NMIA। প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা থাকবে এই বিমানবন্দরের।
নাভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্প। এটি পরিচালনা করছে মুম্বাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (MIAL), যা আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস লিমিটেডের সহায়ক সংস্থা। প্রকল্পে MIAL-এর অংশীদারি ৭৪ শতাংশ এবং মহারাষ্ট্র সরকারের সংস্থা CIDCO-এর অংশীদারি ২৬ শতাংশ।


