Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

Special Revision in Assam : এবার অসমেও SR ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এবার অসমেও শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংশোধন’ বা স্পেশ্যাল রিভিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অন্যান্য রাজ্যের মতো অসমেও এবার পূর্ণমাত্রায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হবে। তবে ডি-ভোটারদের বিষয়ে বিশেষ নিয়ম জারি থাকছে।

সময়সূচি ঘোষণা

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—

১৮–২১ নভেম্বর: নির্বাচন কর্মীদের প্রশিক্ষণ

২২ নভেম্বর–২০ ডিসেম্বর: বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস ও ভোটার কার্ড সংশোধন

২৭ ডিসেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫–২২ জানুয়ারি ২০২৬: অভিযোগ জমা দেওয়ার সময়

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

কমিশনের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, বিশেষ সংশোধনের সময়ে D-ভোটার বা ‘ডাউটফুল ভোটার’দের নাম–ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

কেন আলাদা সময়সূচি?

গত ২৭ অক্টোবর বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু হলেও অসমকে তখন ওই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছিল। সে সময় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান—

অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলছে।

এনআরসির প্রায় ৯৫% কাজ শেষ হয়েছে।

অসমের জনসংখ্যা ও ভোটার সংক্রান্ত নিজস্ব আইন ও বিধান রয়েছে।

এই কারণে ওই সময় SIR চালু না করে অসমের জন্য আলাদা নির্দেশিকা ও স্বতন্ত্র সময়সূচি ঘোষণা করার কথা জানায় কমিশন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হলো।

এনআরসি জট কাটতেই সূচনা

নির্বাচন কমিশনের মতে, অসমে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে এনআরসি ছিল প্রধান বাধা। যেহেতু এনআরসির চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন চলমান ছিল, তাই নতুন ভোটার সংযোজন বা সংশোধন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছনোয় SR প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রভাব ও গুরুত্ব

দীর্ঘদিন ধরে ডি-ভোটার সমস্যায় জর্জরিত অসমে ভোটার তালিকা সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলবে।

এনআরসির কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রশ্নও ফের সামনে আসবে।

নতুন ভোটার সংযোজন, স্টেশন পুনর্বিন্যাস এবং পুরনো তথ্য সংশোধনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ভোট—লোকসভা ও বিধানসভা উভয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেই—এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।