Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

বিহারে NOTA সঙ্গে লড়ছে CPIM, প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির ভোটও নোটার নিচে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশামতোই বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট গেরুয়া ঝড় তুলেছে ভোট বাক্সে। বিপরীতে, আশানুরূপ লড়াই দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী মহাগটবন্ধন। কার্যত ধুলিসাৎ হয়েছে আরজেডি-কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী শক্তিগুলি। তবে বিপর্যয়ের মাঝেও সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ক্ষীণ হলেও কিছুটা আশা জাগিয়েছে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে NOTA ভোটের হার ১.৮১% শতাংশ। এদিকে, এখনও পর্যন্ত সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ৩.১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে, সিপিআই পেয়েছে ০.৬৪ শতাংশ ভোট, সিপিএম পেয়েছে ০.৫৪ শতাংশ। জন সুরাজ পার্টির ভোট NOTA-এর নিচে।

এবারের নির্বাচনে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ২০টি, সিপিআই ৯টি, সিপিআই(এম) ৪টি আসনে লড়েছিল। এদিকে কংগ্রেস ৬১টি আসনে লড়ে এখনও পর্যন্ত ৮.২৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছে।

ভোটের হারের নিরিখে বিজেপি এখনও পেয়েছে ২১.০৩ শতাংশ, জেডিইউ ১৮.৮৭ শতাংশ, এলজেপি ৫.৩৪ শতাংশ। এদিকে মহাগঠবন্ধনের আরজেডি ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, কংগ্রেস ৮.২৭ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে এখনও। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম ১.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএসপি পেয়েছে দেড় শতাংশের মত ভোট।

বিভূতিপুর আসনে এগিয়ে রয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী অজয় কুমার। ২১ রাউন্ড গণনা শেষে অজয় কুমার পেয়েছেন ৬৭,৪৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেডিইউ প্রার্থী রবিনা কুশবাহা পেয়েছেন ৬০,৬৬৮ ভোট। অর্থাৎ সিপিআইএম প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন ৬৭৭৫ ভোটে। এই আসনে ২৫ রাউন্ড গণনা হবে। 

অবিশ্বাস্য ফল’, বলছেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য

ভোটের ফল ঘোষণা হতেই মুখ খুলেছেন সিপিআই(এমএল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—এই ফলাফল বাস্তবের প্রতিফলন নয়।

তিনি বলেন, “এটা একদম অবিশ্বাস্য। দু’দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের পক্ষে এমন ফল ব্যাখ্যাযোগ্য নয়। ২০১০ সালে এমন ফল হয়েছিল, তখন নীতীশ কুমারের শাসনের গোড়ার সময়। এত বছর পরে, ২০২৪ সালে মোদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, এই বিপুল সাফল্যকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।”

দীপঙ্করের মতে, শুধু আরজেডি বা কোনও একক দলের ব্যর্থতা নয়—এই ফলাফল সমগ্র বিরোধী শিবিরের জন্যই গভীর আত্মসমালোচনার জায়গা তৈরি করেছে।

এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন

ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের এক্স পোস্টে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন এসআইআরকে ঘিরে।

২০১টা অভিযোগ: এসআইআর প্রকাশের পর ভোটার সংখ্যা ছিল ৭.৪২ কোটি, অথচ ভোটগ্রহণ শেষে সংখ্যা দাঁড়াল ৭.৪৫ কোটির বেশি।

এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি—“এই বাড়তি ভোট এলো কোথা থেকে?”

লিবারেশনের ব্যর্থতা: শক্ত ঘাঁটি হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত বাম শিবির

২০২০ নির্বাচনে লিবারেশন লড়াই করেছিল ১৯টি আসনে এবং জয় পেয়েছিল ১২টিতে। সেই তুলনায় এ বছরের ফলাফল অনেকটাই হতাশাজনক—

২০টি আসনে লড়ে মাত্র ২টিতে এগিয়ে বা জয়ের সম্ভাবনা, নিজেদের শক্ত ঘাঁটি জিরাদেই আসনও হারিয়েছে দল।

সিপিআইএম-এর কিছুটা আশার আলো: বিভূতিপুরে এগিয়ে অজয় কুমার

বাম শিবিরে কিছুটা ইতিবাচক খবর এসেছে বিভূতিপুর থেকে। সিপিআইএম প্রার্থী অজয় কুমার পেয়েছেন ৬৭,৪৪৩ ভোট, জেডিইউ প্রার্থী রবিনা কুশবাহা পেয়েছেন ৬০,৬৬৮ ভোট, লিড ৬,৭৭৫ ভোট, গণনার মোট রাউন্ড ২৫, এখন পর্যন্ত ২১ রাউন্ড শেষ।

বঙ্গের তুলনায় বিহার আলাদা—সাফ জানালেন দীপঙ্কর

বিহারে বামদের পারফরম্যান্স ‘ফিকে’ হয়ে যাওয়ায় বাংলায় তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু এই তুলনায় যেতে নারাজ দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, “বাংলায় আলাদা সমীকরণ। সেখানে আমরা তৃতীয় শক্তি হিসেবে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে বিজেপির বিস্তার রুখে দেওয়া যায়।”