দোহায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হলো আফগানিস্তান-পাকিস্তান
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শনিবার রাত পর্যন্ত কাতারের রাজধানী দোহায় দু’দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতারের পাশাপাশি তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। রবিবার ভোরে কাতারের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংঘর্ষবিরতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।
কাতারের বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দোহায় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। দুই পক্ষই অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করতে এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, উভয় দেশ ভবিষ্যতে এই সংঘর্ষবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ফের আলোচনায় বসবে।
গত এক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। এর আগে বুধবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৪৮ ঘণ্টার সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিল, যার মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার। কিন্তু সেই রাতেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই হামলায় ৩ জন জাতীয় ক্রিকেটারসহ অন্তত ১০ জন নিহত হন বলে খবর।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আফগান ক্রিকেট বোর্ড (ACB) আগামী নভেম্বরে হতে চলা ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নিজেদের দল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সিরিজটিতে আফগানিস্তানের পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলার কথা ছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে কাতার ও তুরস্কের উদ্যোগে দোহায় শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আফগানিস্তানের তরফে তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়, আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা মহম্মদ আসিফ।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, সীমান্ত এলাকায় প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও সময়সাপেক্ষ।


