‘সমস্যা পাকিয়ে কারো লাভ হবে না’, শুল্ক ইস্যুতে ট্রাম্পকে তোপ জয়শঙ্করের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সামিটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির খামখেয়ালি আচরণ ও বাণিজ্য নীতির উপরোপযুক্ত হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সোমবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে জয়শংকর বলেছিলেন, “বাণিজ্যনীতি সর্বদা বৈষম্যহীন ও উভয়ের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিচালিত হওয়া উচিত। সমস্যা খাড়া করে কারও লাভ নেই।” তিনি ব্রিকসকে একজোট হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা মূলত রুশ তেল কেনার অভিযোগে করা হয়েছে। শুধু ভারত নয়, একইভাবে ব্রাজিলকেও ৫০ শতাংশ শুল্কে সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি ও একতরফা শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জয়শংকর বলেন, “বর্তমান সময়ে এমন এক পরিবেশ দরকার যা বৈষম্যমুক্ত এবং গঠনমূলক। বাণিজ্যের প্রসারে সমন্বয়মূলক মনোভাবই ফলপ্রসূ।”
বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ব্রিকসকে চারটি মূল দিক নির্দেশ করেন জয়শংকর—
১. সাপ্লাই চেন শক্তিশালী করা: বাণিজ্য ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলায় ব্রিকস দেশগুলিকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
২. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস: ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে, যা সমাধান করে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমঝোতায় আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
৩. বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা: করোনা মহামারি, যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থার ব্যর্থতার উল্লেখ করে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা জানানো হয়।
৪. রাজনীতি মুক্ত বাণিজ্য: বাণিজ্যকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা মোটেও কাম্য নয় বলে জোর দেওয়া হয়। জয়শংকর বলেন, ব্রিকস দেশগুলির উচিত নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ দূরে রেখে সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করা।
এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা সহ মোট ১১টি দেশের সদস্য রাষ্ট্রনেতারা। বিশেষত শি জিনপিং বলেন, “কিছু দেশ বাণিজ্য ও শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে, যা গোটা বিশ্ব অর্থব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনকে দুর্বল করছে। এসবের বিরুদ্ধে ব্রিকসকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।”
এভাবে ব্রিকস সামিটে মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তা তুলে ধরে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আগামী দিনে এই আলোচনার প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য নীতির ওপর কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা গোটা বিশ্বের নজর থাকবে।


