Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

‘মৃত’ অর্থনীতি বলে বিপাকে ট্রাম্প, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮% এদিকে আমেরিকার ৩.৩%

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের একই সময়ের প্রবৃদ্ধি ৩.৩% থেকে অনেক বেশি। এই চমকপ্রদ সাফল্যের পেছনে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিষেবা খাতের দৃঢ়তা এবং উৎপাদন খাতের পুনরুজ্জীবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৩% থেকে ৬.৪% স্থির করেছে। এই প্রবৃদ্ধি ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্রমশ শ্লথ হয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারত তার গতি বজায় রেখেছে, এমনকি মার্কিন শুল্ক নীতির কড়া প্রভাবের মধ্যেও।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তি ছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। তবে ভারতের যুক্তি ছিল, এই আমদানি তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এবং বৈধ। ভারতের অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষক এডওয়ার্ড প্রাইস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করে বলছেন, এটি দ্বৈতনীতি এবং বিপজ্জনক পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২১ শতকের বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারতের মতো কৌশলগত অংশীদার হারানো উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বলেন, “ভারত দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।” বর্তমানে ভারত চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। সমীক্ষক সংস্থা ‘ইওয়াই ইকোনমিক ওয়াচ’ আরও পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী ১৩ বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা মার্কিন অর্থনীতির অস্থিরতা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করছেন।

ভারতের এই চমকপ্রদ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র সংখ্যা হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশটির আত্মনির্ভরতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বলেছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এতটাই শক্তিশালী যে বাইরের চাপ সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

পরিস্থিতি যে মোদি সরকারের পক্ষে উজ্জ্বল হচ্ছে, তা স্পষ্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শুল্কনীতি ও চাপের মুখেও ভারতীয় অর্থনীতি সুস্থভাবে গতি ধরে রেখেছে। এই প্রবৃদ্ধি ভারতকে গ্লোবাল ইকোনমিক প্ল্যাটফর্মে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।