‘এত অপমান সহ্য করা যায় না’, সংযুক্ত মোর্চা ছাড়ার হুমকি আইএসএফ-এর
কলকাতা: একুশের বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে জোট করে ভোটে লড়েছিল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং আইএসএফ। দুই দল জোট বেঁধে তৈরি করেছিল সংযুক্ত মোর্চা। নির্বাচনের আগে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করা নিয়ে নানারকম অন্তর্দ্বন্দ্ব সামনে এসেছিল। এমনকি বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির জন্য আইএসএফকেই দায়ী করা হয়। এবার জোট ভাঙার হুঁশিয়ারি দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
বুধবার সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র বিধায়ক বলেন, আমরা সংযুক্ত মোর্চায় আছি। কিন্তু এই মোর্চার অন্য দল আমাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করছে। মোর্চার স্বার্থে রয়েছি। কিন্তু আর কতদিন এভাবে চুপ করে থাকব। এভাবে চুপ করে থাকতে পারছি না। যদি মনে হয় সংযুক্ত মোর্চা থেকে বেরিয়ে গেলে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকবে, তাহলে আমরা সেটা করতে রাজি আছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত ঘন্টার মত এভাবে বাজিয়ে চলে যাবে, এটা মেনে নিতে পারছিনা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক।
সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সাথে দেখা করতে চেয়েছিল আইএসএফ। কিন্তু তিনি নাকি টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ। এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী সাফ বলেছেন, এই জোট কেবলই একুশের বিধানসভা নির্বাচনকেন্দ্রীক ছিল। এরপরেই আইএসএফ সাফ জানিয়ে দিল, এভাবে আর বেশিদিন সহ্য করে একসাথে থাকা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় বাম এবং কংগ্রেস রাজ্যে খাতা খুলতে পারেনি। তাদের আসন সংখ্যা শূন্য। নির্বাচনে শোচনীয় এই অবস্থার জন্য আইএসএফের উপরেই দোষ চাপান তারা। সম্প্রতি বিমান বসু জানিয়েছেন, বিজেপি বিরোধী যেকোন দলের সাথেই কাজ করতে রাজি তারা। অর্থাৎ, তৃণমূলের সঙ্গেও জোট করতে প্রস্তুত তারা। এই ঘোষণায় চাপ বেড়েছে আইএসএফের। এবার সংযুক্ত মোর্চা ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পাল্টা চাপ বাড়ালো আইএসএফ।

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।

