Wednesday, April 29, 2026
রাজ্য​

জেল থেকে বেরিয়েই ধর্ষিতাকে ফের ধর্ষণ, অভিযোগ নিচ্ছে না পুলিশ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বছর একুশের গৃহবধূকে ধর্ষণের জেলে গিয়েছিল প্রতিবেশী এক যুবক। জেল থেকে বেরিয়ে ফের ওই বধূকেই ধর্ষণ করলেন মিলন শিকারী নামে ওই যুবক। নির্যাতিতার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে বার বার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থানার দিঘিরপাড়-বকুলতলা এলাকায়।

পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ায় রায়দিঘির প্রাক্তন বাম বিধায়ক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে হাজির হন নির্যাতিতার পরিবার। কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর।

নির্যাতিতার স্বামীর অভিযোগ, পেহায় তিনি দিনমজুর। তাই কাজের জন্য তাঁকে বেশিরভাগ সময়ই কলকাতায় থাকতে হয়। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তান থাকে। সেই সুযোগে প্রতিবেশি যুবক তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। জানা গেছে, ওই যুবকের মা থানায় রাঁধুনীর কাজ করেন। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, সেকারণেই তাঁদের অভিযোগ নিচ্ছে না পুলিশ।

রায়দিঘি থানা অভিযোগ না নেওয়ায় সুন্দরবন পুলিশ সুপারের দারস্থ হন নির্যাতিতার পরিবার। কিন্তু তাতেও সুরাহা মেলেনি। আলিপুর ক্রিমিনাল আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু মার্চে জেল থেকে ছাড়া পান অভিযুক্ত মিলন শিকারী।

নির্যাতিতার অভিযোগ, বাড়ি ফিরে মিলন ও তার বাবা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। ১০ এপ্রিল ফের তাঁকে ধর্ষণ করেন মিলন। পরের দিন ফের রায়দিঘি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু গতবারের মতোই অভিযোগ নেওয়া হয়নি। ১২ এপ্রিল সুন্দরবনের এসপিও জানানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি।

বাধ্য হয়ে নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামী প্রাক্তন বিধায়ক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় নির্যাতিতার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনার রাজ্যের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।