Putin-Modi : ২৪ বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রথম সাক্ষাতেই পুতিনের সঙ্গে মোদীর বন্ধুত্ব
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ‘বন্ধু’ ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একাধিক প্রোটোকল ভেঙেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’জনের বন্ধুত্ব ২৪ বছরের। প্রায় আড়াই দশক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সৌজন্যে প্রথম বার মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল মোদী-পুতিনের। সেই থেকেই সখ্যতা গড়ে ওঠে মোদী-পুতিনের।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফর ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আমেরিকা-সহ পশ্চিমী বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দু’দিনের সফরে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক ‘কৌশলগত উপহার’ তুলে দিয়েছেন পুতিন। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সব কিছুকে ছাপিয়ে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দুই দশক পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০০১ সালে মস্কোতে।
২০০১ সালে শুরু, ২০২৪-এ আরও দৃঢ়
সালটা ২০০১। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর রাশিয়া সফরে সঙ্গী হয়েছিলেন সদ্য শপথ নেওয়া গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই প্রথমবার পুতিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ। বাজপেয়ীর ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা যুব নেতা মোদীর সেই আর্কাইভ-ছবি পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফরের সঙ্গে সঙ্গে ফের ভাইরাল হয়েছে। একই সফরে মোদীকে দেখা গিয়েছিল রুশ প্রেসিডেন্টের পাশে বসে সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করতে, যা পরবর্তীতে দুই নেতার ব্যক্তিগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

পরে স্মৃতিচারণায় মোদী জানান, ‘‘আমি তখন রাজ্যের এক মুখ্যমন্ত্রী মাত্র। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে আমার ভূমিকা ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কিন্তু পুতিন আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছিলেন, তা ভোলার নয়।’’ বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রথম সাক্ষাৎই ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পথ প্রশস্ত করে।
গুজরাট–আস্ট্রাকান যোগ
২০০১ সালের সেই সফরেই গুজরাট ও রাশিয়ার আস্ট্রাকান অঞ্চলের মধ্যে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পেট্রোকেমিক্যাল, হাইড্রোকার্বন, বাণিজ্য, বিজ্ঞান–প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি—বহুমুখী ক্ষেত্রকে ছুঁয়ে ছিল সেই সমঝোতা। ২০০৬ সালের সফরে চুক্তির মেয়াদ বাড়ান মোদী। পরবর্তীতে এই সম্পর্কই জ্বালানি–বাণিজ্য ক্ষেত্রে দিল্লি–মস্কো সংযোগকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়।
প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে মোদী
ভারত-আমেরিকা টানাপোড়েনের মাঝে পুতিনের সফর ভারত–রুশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ৪ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে পুতিন পৌঁছতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে সশরীরে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সাধারণত বিদেশমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাই এই দায়িত্ব পালন করেন। তবে বন্ধু পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে পৌঁছে যান মোদী।
বিমানবন্দরের রানওয়েতে একে অপরকে আলিঙ্গন ও করমর্দন করেন। এরপর দু’জন একই গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে রওনা হন। এমনকি মোদী তাঁর উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন রেঞ্জ রোভার ছেড়ে একটি সাদা টয়োটা ফরচুনারে করে পুতিনকে নিয়ে যান, এটিও বিরল।
এর আগে শেখ হাসিনা ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রোটোকল ভাঙতে দেখা গিয়েছিল মোদীকে।
শান্তির বার্তা ভারতের
৫ ডিসেম্বর হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হয় ২৩তম ভারত–রাশিয়া শীর্ষবৈঠক। সেখানে ‘বন্ধু’ পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে মোদী বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ নই, তবে আমরা শান্তির পক্ষে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে উজবেকিস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনকে সতর্ক করে মোদী বলেছিলেন, “এটা যুদ্ধের সময় নয়।”
কূটনৈতিক তাৎপর্য
পশ্চিমী চাপ, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা—সবকিছুর মাঝেও পুতিনকে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে মোদী–পুতিনের মধ্যে ঝটপট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়; রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা–জ্বালানি সহযোগিতা আগের মতোই টেকশই আছে; মস্কো–বেইজিং ঘনিষ্ঠতার পরও রাশিয়া দিল্লিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত ইঙ্গিত।


