ঘুরে ঘুরে ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরকরণ; পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেফতার ২ সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম করে ধর্ম প্রচার ও ধর্মান্তরকরণের কাজের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছিল দুই ব্যক্তি— এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে। অভিযুক্তদের নাম মুকেশ রজক ও রাকেশকুমার গুপ্তা। শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোররাত পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি ও বর্ধমান শহরে অভিযান চালিয়ে এই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ।
সূত্রের খবর, ধৃত মুকেশ রজকের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ঘাঁটির কাছেই তার বসবাস। সন্দেহজনক গতিবিধির জেরে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর সময় থেকেই তার উপর নজর রাখছিল এসটিএফ। এই সূত্র ধরেই উঠে আসে কলকাতার ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের বাসিন্দা রাকেশকুমার গুপ্তার নাম। জানা গিয়েছে, মুকেশ ও রাকেশ দু’জনেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে ধর্মীয় প্রচার ও ধর্মান্তরকরণের কাজ করত। কিন্তু এই কাজ ছিল আসলে ছদ্মবেশ। মূলত মোবাইল সিমকার্ডের মাধ্যমে ওটিপি পাঠিয়ে ও ভারতীয় সিম বিদেশি এজেন্টদের হাতে তুলে দিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
ছয় মাস আগে তারা পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি পুরসভা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। সেখান থেকেই গোটা কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মেমারি থেকে রাকেশকে গ্রেপ্তার করে STF। তবে মুকেশ তখন ছিল না সেখানে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নবাবহাট এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে অভিযান চালিয়ে মুকেশকে পাকড়াও করা হয়। সে তখন অসুস্থতার কারণে সেখানে ভর্তি ছিল।
ধৃতদের রবিবার সকালে কলকাতায় এনে আদালতে পেশ করে সাতদিনের হেফাজতে নেয় এসটিএফ। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতেরা দাবি করেছে, তারা আইএসআই বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা শুধুমাত্র ওটিপি ও সিমকার্ডের মাধ্যমে কিছু ‘তথ্য’ পাঠাত দিল্লি ও মুম্বইয়ের কয়েকজনের কাছে। তারা আদৌ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তারা জানে না বলেও দাবি করেছে।
তবে তদন্তকারী অফিসাররা তাদের বক্তব্যে বিশ্বাস রাখছেন না। সূত্র অনুযায়ী, ধৃতরা তথ্যের বিনিময়ে মোটা টাকা পেত। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অ্যাকাউন্টেও বড় অঙ্কের লেনদেনের হদিস মিলেছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ধৃতদের মোবাইল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত তিন বছর ধরে তারা এই কার্যকলাপে যুক্ত। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই তারা পূর্ব বর্ধমান জেলায় ঘাঁটি গেড়েছিল। এসটিএফ মনে করছে, এই চক্রে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে আসতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


