Monday, January 19, 2026
Latestদেশ

Mohan Bhagwat : ‘বিশ্বগুরু ভারত, হাজার বছর ধরে বিদেশি আক্রমণ, ধর্মীয় স্থান ধ্বংস, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়, তবুও আমরা টিকে আছি’, মন্তব্য মোহন ভাগবতের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত আবারও বিশ্বগুরু হয়ে ওঠার পথে — এমনটাই দাবি করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারত একসময় বিশ্বের বড় সমর্থন ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকায় ফিরবে।’ 

বিদেশি আক্রমণের ইতিহাস টেনে এনে ভাগবত বলেন, “ভারতবর্ষে হাজার বছর ধরে বিদেশিরা আক্রমণ করেছে। দাসত্বের মধ্যেও আমাদের কাটাতে হয়েছে। ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণ হয়েছে, জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে— তবুও আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি টিকে আছে।”

ভাগবতের দাবি, ‘অতীতের ভারত ছিল দুর্বল, কিন্তু এখন ভারত শক্তিশালী। আগামী সপ্তাহেই রাম মন্দিরে পতাকা উত্তোলন করা হবে।’

হিন্দু সমাজ না থাকলে পৃথিবী থাকবে না’

মোহন ভাগবত বলেন, হিন্দু সমাজই বিশ্বের ধারক- বাহক। তাঁর বক্তব্য, “ইউনান (গ্রিস), মিসর, রোম— সব সভ্যতাই বিলুপ্ত। কিন্তু ভারতীয় সভ্যতা টিকে আছে। হিন্দুরা যদি না থাকে, পৃথিবীই থাকবে না। কারণ ধর্মের প্রকৃত অর্থ এবং এর নির্দেশনা সর্বদা হিন্দু সমাজ বিশ্বকে প্রদান করেছে। এটি আমাদের ঐশ্বরিক কর্তব্য।’

জাতিগত অস্থিরতায় বিপর্যস্ত মণিপুরে এই প্রথম সফরে এসে তিনি হিন্দু সমাজকে ‘ধর্মের বিশ্ব-অভিভাবক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

ভাগবত আরও দাবি করেন, ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও একই পূর্বপুরুষের বংশধর, তাই ‘ভারতে কেউ অ-হিন্দু নন’।

অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ডাক

দেশকে শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, “শক্তির প্রথম শর্ত হল অর্থনৈতিক সক্ষমতা। আমাদের অর্থনীতি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হতে হবে। কারও উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বদেশি’ পণ্যের উপর জোর দিলে এই পথ কঠিন নয়।

নকশালবাদের পতন সম্পর্কে তিনি বলেন, সমাজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আর এটি সহ্য করবে না। তাই নকশালবাদ শেষ হয়ে গেছে।

মোহন ভাগবত বলেন, ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনও অস্ত যেত না। কিন্তু ভারতে এর সূর্যাস্ত শুরু হয়েছিল। আমরা ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ৯০ বছর ধরে এটি অর্জনের জন্য সংগ্রাম করেছি। সেই সময় জুড়ে, আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি। স্বাধীনতার সেই কণ্ঠস্বর কখনও নিভে যেতে দেওয়া হয়নি। এটি কখনও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, কিন্তু কখনও সম্পূর্ণরূপে দমন করতে পারেনি।’