টানা ৩০ দিন জেলে থাকলে ছাড়তে হবে পদ, মোদী সরকারের আনা বিলকে সমর্থন শশীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান (১১৩তম সংশোধনী) বিল পেশ হতেই শুরু হয়েছে প্রবল হট্টগোল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন, যার মধ্যে অন্যতম এই সংশোধনী বিল। এতে প্রস্তাব করা হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী অথবা যে কোনও রাজ্যের মন্ত্রী যদি কোনও গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে ৩১তম দিন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি পদ হারাবেন।
সরকারের অবস্থান
সরকারের যুক্তি, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি কিংবা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির মতো অপরাধে যদি কোনও জনপ্রতিনিধি দীর্ঘকালীনভাবে গ্রেফতার থাকেন, তবে তাঁর পদে থাকা সংবিধান ও গণতন্ত্রের মর্যাদার পরিপন্থী। বর্তমানে কেবলমাত্র দোষী সাব্যস্ত হলে পদ খোওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে, আদালতের রায় আসার আগেই দীর্ঘমেয়াদি গ্রেফতার হলে পদ খোওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।
বিরোধীদের প্রতিবাদ
বিলটি পেশ হতেই কংগ্রেসসহ বিরোধী শিবিরের তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য— “কালকেই যদি কোনও বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাঁকে ৩০ দিনের জন্য গ্রেফতার করা হয়, তাহলে কি তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাবেন? এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী এবং জনমতের সঙ্গে প্রতারণা।”
কংগ্রেসের ভিতরে ভিন্ন সুর
তবে কংগ্রেস শিবিরের মধ্যেই এদিন ভিন্ন সুর শোনা যায়। বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুর খোলাখুলিভাবে জানান, তিনি এই প্রস্তাবকে অস্বাভাবিক মনে করেন না। এনডিটিভি-কে তিনি বলেন— “আপনি যদি ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে পদ খোওয়ানোই তো স্বাভাবিক। সাধারণ বুদ্ধি তাই বলে… আমি এতে কোনও ভুল দেখছি না।”
থারুর আরও জানান, যদি বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়, তবে তা গণতন্ত্রের স্বার্থেই ভালো পদক্ষেপ হবে, কারণ সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি যুক্তিসঙ্গত সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে।
অন্যান্য বিলও পেশ
অমিত শাহ এদিন আরও দুটি বিল পেশ করেন—
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল, ২০২৫
জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল, ২০২৫
সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, ২০২৫
এসব বিলও মূলত সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্য নিয়েই আনা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।


