টালমাটাল আমেরিকার অর্থনীতি! ঘরে-বাইরে চাপের মুখে ভারতের দিকে ফের বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছেন ‘ব্যবসায়ী’ ট্রাম্প?
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা এবং সরকারি রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ‘বেপরোয়া’ সিদ্ধান্তের জেরে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭,৮৩০ কোটি ডলারে পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ‘খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন যা ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক মাত্রা ছুঁয়ে যেতে পারে।
বিউরো অফ ইকোনমিক অ্যানালিসিস জানিয়েছে, জুলাইয়ে জিডিপি সূচকের ব্যাপক পতনের কারণে আমদানির পরিমাণ লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। মাত্র তিন মাসে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫,৮৮০ কোটি ডলার। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। শুল্কযুদ্ধের আবহে বিদেশ থেকে আমদানি কমানোর বদলে তা বিপরীতমুখী গতি ধরেছে। একদিকে যেখানে পেট্রোপণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে কম্পিউটার, টেলি যোগাযোগ যন্ত্রাংশসহ শিল্পপণ্য আমদানিতে ৪৭০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৯,৬২০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে।
অপরদিকে, আমেরিকার ফার্মা শিল্পেও ভারতের উপর নির্ভরতা রয়েছে। জুলাইয়ে ভারত থেকে ১১০ কোটি ডলারের ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কযুদ্ধে ফার্মা খাতে বাদ রাখেন।
বিশেষভাবে লক্ষণীয়, জুলাইয়ে আমেরিকার পরিষেবা খাতে আমদানির পরিমাণ রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৭০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৭,৫৫০ কোটি ডলারে। যেখানে পরিবহণ, পর্যটনসহ অন্যান্য খাতের ওপর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে একই সময়ে পরিষেবা রফতানিতে ৬০ কোটি ডলারের বৃদ্ধিতে মার্কিন অর্থনীতির একমাত্র আশার আলো দেখা দিয়েছে।
মুডিজ কর্পোরেশন-এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মন্তব্য আমেরিকার অর্থনীতির ভবিষ্যতকে আরও অন্ধকার করে তুলেছে। তার মতে, চলতি ত্রৈমাসিকে জিডিপি সূচক ঋণাত্মক থাকলে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার কবলে পড়তে বাধ্য। ইতোমধ্যে জুলাই-অগস্টে পরিস্থিতি বদলায়নি। সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে মহামন্দার সংকেত আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
এই অর্থনৈতিক সংকটের আবহে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের বার্তাও নজরকাড়া। তিনি প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘ভারত ও রাশিয়াকে চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি’’, পরবর্তীতে উল্টে বলেছেন, ‘‘আমরা ভারতকে হারিয়ে ফেলেনি। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় আমরা অখুশি। তাই ভারতের উপর আমরা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি। তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। মোদীই ভালো প্রধানমন্ত্রী।’’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক অনুভূতি এবং সম্পর্কের প্রশংসা করছি। আমরা এর সম্পূর্ণ প্রতিদান দেব।’’
দেশের আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন ভারতের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও গভীর হলে তা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে এটি কতটুকু স্থায়ী হবে, সেটি সময়ই বলবে।


