Venezuelan oil: ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করা হবে: ট্রাম্প
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলের ভাণ্ডারের উপর কার্যত সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল বিক্রি করবে। এই তেল বাজারমূল্যেই বিক্রি করা হবে। তেল বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ থাকবে খোদ ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে।
ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। তেল স্টোরেজ জাহাজে করে আমেরিকায় আনা হবে এবং সরাসরি বন্দরে নামানো হবে। পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তেল বিক্রির অর্থ আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে সেই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার জনগণের কল্যাণেই ব্যবহার করা হবে।”
বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভাণ্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল (৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল)। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। সমালোচকদের একাংশের মতে, নিকোলাস মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যেও ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল এই তেলের ভাণ্ডারের উপর দখল কায়েম করা।
নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিউ ইয়র্কের আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডেলসি রডরিগেজ। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলায় কোনও নির্বাচন হবে না এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর আমেরিকার প্রভাব বজায় থাকবে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মনে করছেন, ডেলসি রডরিগেজকে কার্যত ‘হাতের পুতুল’ হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কূটনৈতিক মহলে।


