Trump Tariff India: নতুন আইন আনছে ট্রাম্প, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে সর্বোচ্চ ৫০০% শুল্ক আরোপ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ফের চাপের মুখে পড়তে পারে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলের অনুমোদন দিয়েছেন। এরপরেই ওয়াশিংটনের শুল্ক নীতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লিতে। প্রস্তাবিত এই বিল আইনে পরিণত হলে, রাশিয়া থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর উপর আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন।
রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বিলটির জন্য ছাড়পত্র মিলেছে। আগামী সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে। এই বিলে রুশ তেল ও ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
বিলটির যৌথ স্পনসর রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। গ্রাহামের দাবি, এই আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর ‘অসাধারণ চাপ’ তৈরির ক্ষমতা দেবে। মূল লক্ষ্য একটাই, রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করা এবং মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা!
গ্রাহামের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন শান্তির পথে এগোতে প্রস্তুত হলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে যে দেশগুলো লাভবান হচ্ছে, তাদের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সেনেট ও হাউস নেতৃত্ব এই বিলের ভোট পিছিয়ে দিয়েছিল। কারণ ট্রাম্প তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি সরাসরি ভারতের পণ্য আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানোর পথেই হাঁটতে চান।
বর্তমানে চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ছাড়ের দামে রুশ তেল কিনে ভারতের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু সেই নীতিই এখন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করছে।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পাশাপাশি রুশ তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক জরিমানা বসানো হয়। ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। একই ধরনের কড়া অবস্থান দেখা যায় চিনের ক্ষেত্রেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনা পণ্যের উপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক চাপালে, পাল্টা হিসেবে বেজিংও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ফের ইঙ্গিত দেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ না হলে ভারতের উপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তার কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানতেন যে আমি খুশি নই।’ গত মাসে ট্রাম্প ভারতীয় চাল আমদানির উপরও নতুন শুল্কের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে এক কৃষক প্রতিনিধি ভারত, চিন ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তোলেন।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত থমকে রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আমেরিকান কৃষিপণ্যের উপর ভারতের শুল্ক কমাতে হবে। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের কৃষক ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থে তারা কোনও আপস করবে না। ফলে রুশ তেল ইস্যুকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে আরও চাপ বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
যদিও কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য করতে চাইছে। ব্রিকস সামিটে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত। নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য হলে আমেরিকার ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য নষ্ট হবে। তাই আমেরিকা চাইছে ভারতকে দমিয়ে রাখতে। এদিকে, আমেরিকা নিজেই রাশিয়া থেকে পণ্যসামগ্রী কিনছে।


