‘ভেনেজুয়েলা চালাবে আমেরিকাই’, ঘোষণা ট্রাম্পের; নজরে ভেনিজুয়েলার বিশাল তৈল ও খনিজসম্পদ?
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন সেনা। এরপর বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার শাসনভার আপাতত আমেরিকার হাতেই থাকবে।
ট্রাম্প বলেন, “যতদিন নিরাপত্তা ফিরছে এবং সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে, ততদিন আমেরিকা ভেনিজুয়েলা চালাবে। আমরা চাই না এই পরিস্থিতিতে আর কেউ হস্তক্ষেপ করুক।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
তৈল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট মাদুরো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই সূত্রেই আমেরিকায় নেশার সামগ্রী ঢুকছে। এমনকি জেলখানা খালি করে বেআইনি অভিবাসীদের আমেরিকায় পাঠানোর অভিযোগও তোলা হয়। যদিও এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মাদুরো বারবার দাবি করেছেন, আসলে ভেনিজুয়েলার বিশাল তৈলভাণ্ডারের দিকেই নজর আমেরিকার।
শনিবার ভোররাতে মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। জানানো হয়েছে, তাঁদের বিচার আমেরিকাতেই হবে। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মাদুরো। কিন্তু তার আগেই এই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি।
আমেরিকা কীভাবে অন্য একটি সার্বভৌম দেশ পরিচালনা করবে, সে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো কী হবে—এই সব প্রশ্নে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে না কি মার্কিন আইন কার্যকর হবে, তাও পরিষ্কার করেননি তিনি। তবে ভেনিজুয়েলার তেলের ভাণ্ডার যে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণেই থাকবে, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট।
ভেনিজুয়েলার তৈলভাণ্ডার নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সেখানে গভীরভাবে ইনভলভ হতে চলেছি। বিশ্বের বড় বড় তেল সংস্থাগুলি যুক্ত থাকবে। সবাই ইনভলভ হবে।”
উল্লেখ্য, ৬৩ বছর বয়সি নিকোলাস মাদুরো একসময় বাসচালক ছিলেন। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ তাঁকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন। শাভেজের মতো মাদুরোও বরাবর আমেরিকাবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন এবং ভেনিজুয়েলার বৃহত্তম তৈলভাণ্ডার দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে।
মাদুরোর গ্রেফতার ও ভেনিজুয়েলা শাসনের দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লাতিন আমেরিকায় এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।


