আমেরিকায় খাদ্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া, জনরোষ সামলাতে ২০০ টিরও বেশি পণ্য থেকে শুল্ক কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আমেরিকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র অসন্তোষ। চাপে পড়ে অবশেষে শুল্কনীতিতে বদল আনতে বাধ্য হল ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ২০০টিরও বেশি খাদ্যপণ্যের উপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাড়তি শুল্ক আরোপের জেরে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভও গত কয়েক সপ্তাহে তীব্র হয়েছে। সেই আবহেই গোমাংস, কলা, কফি, কমলালেবুর রস সহ একাধিক নিত্যপণ্যে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের দাবি, বাজারে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে এবং দাম কিছুটা হলেও কমবে।
যদিও শুল্ক কমানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে শুল্কই মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে।” তবু বর্তমান মার্কিন বাজারে মুদ্রাস্ফীতির অস্তিত্ব তিনি মানতে রাজি নন।
নতুন বাণিজ্যচুক্তির ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদর থেকে আমদানিকৃত খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের শুল্কও আগামিতে কিছুটা কমতে পারে। বছর শেষ হওয়ার আগেই আরও কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষের।
ক্ষমতায় আসার পর আক্রমণাত্মক শুল্কনীতি
এই বছরের শুরুতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুল্কনীতিকে “বাণিজ্য যুদ্ধের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের উপর ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন। ভারতের ওপর আরোপ করেন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে—অনেক দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কেও তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়। পাশাপাশি মার্কিন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি চরমে পৌঁছয়।
শুল্ক রাজস্বের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
শুল্কনীতির পক্ষেই এখনও সওয়াল ট্রাম্পের। তাঁর দাবি, আমদানি শুল্ক থেকে যে বিপুল রাজস্ব আসছে, তা আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিম্ন ও মধ্য আয়ের আমেরিকানদের প্রত্যেককে ২ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। তবে এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আপাতত এই শুল্ক রাজস্ব মূলত সরকারের ঋণ শোধে ব্যবহার হচ্ছে। অন্য ঘোষিত পরিকল্পনাগুলি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।


