রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়াচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, ভাইরাল ভিডিও
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) এক কর্মীর বিরুদ্ধে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩১ আগস্ট মালদার চাঁচল কলেজে। পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র বাঙালি সমাজে এই ঘটনাটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়, মেয়ো রোডে তৃণমূলের বিক্ষোভ মঞ্চ খুলে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা। তাদের হাতে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি পোড়ায়। বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্র পরিষদের এক কর্মী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতেও আগুন ধরিয়ে দেন। পরে অবশ্য ছবিটি সরিয়ে নেন ওই কর্মী, তবে ততক্ষণে কবিগুরুর ছবি পুড়ে ছাই।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার X হ্যান্ডলে এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, “গোটা বাঙালি সমাজ মর্মাহত। সবার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ছবি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার মতো দুঃসাহস যাদের মধ্যে জাগে, তাদের বাংলা প্রেমের দাবিই ভণ্ডামি।” তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, “এ ধরনের কাজ বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে মালদা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রসূন রায় স্পষ্ট করেছেন, “যদি আমাদের কেউ এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের সংগঠিত অগণতান্ত্রিক মনোভাব ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা বলে কটাক্ষ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক জলঘোলা তৈরি করেছে। সামনের দিনে এই ঘটনার প্রতি রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নেয় সেদিকেই নজর থাকবে সমগ্র বাঙালি সমাজের।


