Lakshmi Bhandar: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ালো তৃণমূল, মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যের মহিলা কল্যাণে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ধাক্কায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই বাড়তি ভাতা কার্যকর হবে।
বুধবার বিধানসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই ঘোষণা করেন। বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা এখন থেকে মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন। এতদিন তাঁরা মাসে ১,০০০ টাকা ভাতা পেতেন। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে ভাতা বাড়িয়ে করা হয়েছে মাসে ১,৭০০ টাকা। আগে এই শ্রেণিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,২০০ টাকা করে পেতেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটারদের আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে একই বছর প্রকল্পটি চালু করে রাজ্য সরকার। শুরুতে প্রত্যেক উপভোক্তাকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হত।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এক দফায় ভাতা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলাদের জন্য ভাতা বাড়িয়ে করা হয় ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ১,২০০ টাকা। সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক সুফলও পায় রাজ্যের শাসকদল। মহিলা ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দেন।
রাজ্য সরকারের হিসেব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ হিসেবে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে আজীবন করার দিকেও এগোচ্ছে সরকার।
নতুন করে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাকে মহিলা কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আরও একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আসন্ন বিধানসভা ভোটে এর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


