বাড়ির দেওয়ালে পদ্মফুল থাকলে বন্ধ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’? মেমারিতে তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আবহে ফের চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি। অভিযোগ, বাড়ির দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকা থাকলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এক তৃণমূল নেত্রী। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনার সূত্রপাত মেমারি ১ নম্বর ব্লকে। তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী গীতা দাস একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যাদের বাড়ির দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকা রয়েছে, তাঁরা যদি তা না মুছেন, তবে তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা শাসকদলের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদারের সমর্থনে এক সভায় উপস্থিত ছিলেন দেব (Dev) । সেই সভাতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে গীতা দাস আরও বলেন, যারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)-র সমালোচনা করছেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত। পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি ভোট চাইতে এলে ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করার কথাও।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। ভারতীয় জনতা পার্টির (Bharatiya Janata Party) তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষই এর জবাব ব্যালট বাক্সে দেবে। অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) (Communist Party of India) (Marxist)-ও এই মন্তব্যকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে কটাক্ষ করেছে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই হাবড়ার জনসভা থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই প্রকল্প সারাজীবন চালু থাকবে এবং মানুষের সমর্থন চেয়েছেন উন্নয়ন প্রকল্প বজায় রাখার জন্য।
অন্যদিকে, জাতীয় স্তরেও মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে জোর প্রচার চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পশ্চিমবঙ্গের সভা থেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ আইন সংশোধনের কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এর সুফল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোটের আগে এই ধরনের মন্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও উত্তাপ বাড়াতে পারে।


