National Youth Day 2026: আজ ‘জাতীয় যুব দিবস’, স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস। এ বছর তাঁর ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী। এই উপলক্ষে দেশজুড়ে বিবেকানন্দের আদর্শ ও কর্মধারাকে স্মরণ করে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। যুব সমাজের কাছে স্বামীজি এক অনন্য আদর্শ—যার চিন্তা, লেখা ও কর্ম ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বামী বিবেকানন্দ উনিশ শতকের এক বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর গুরু ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাধনা ও দর্শন নরেন্দ্রনাথ দত্তকে বিবেকানন্দ হয়ে ওঠার পথে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভারতীয় সনাতন ধর্মের সারবত্তা, মানবতাবাদ এবং আত্মশক্তিতে বিশ্বাস—এই ত্রয়ীকে ভিত্তি করেই তিনি সমাজকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম সংসদে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় দর্শনের পরিচয়কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ‘ভাই ও বোনেরা’ সম্বোধনে শুরু হওয়া সেই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা শ্রোতাদের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলেছিল। তিনি ভারতের প্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সহনশীলতা ও শান্তির বাণী বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। ওই ভাষণের পর ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ভারতীয় দর্শন ও ধর্মচিন্তার প্রচারে তিনি সক্রিয় হন।
স্বামীজি কেবল আধ্যাত্মিক গুরু নন, সমাজ সংস্কারক হিসেবেও পরিচিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রেক্ষাপটে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের দিকটি তিনি বারবার তুলে ধরেছেন। জাতপাতের বিভেদ ভুলে ব্রাহ্মণ থেকে শূদ্র—সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ জাগরণেই তিনি ভারতের পুনরুত্থানের পথ দেখেছিলেন। তাঁর মতে, আধ্যাত্মিক শক্তির জাগরণই রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির ভিত্তি।
স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ দেশসেবায় এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আইরিশ নারী মার্গারেট নোবেল, যিনি ভগ্নী নিবেদিতা নামে পরিচিত। তিনি স্বামীজির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে শিক্ষা ও সমাজসেবার পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিবেক উৎসব, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের আত্মবিশ্বাস, কর্মনিষ্ঠা ও মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মকে দেশ ও সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে—এই বার্তাই আজকের দিনের মূল সুর।


