ভোটের আগে ভাঙন তৃণমূলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একঝাঁক নেতা বিজেপিতে
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে দলবদলের হিড়িক। বিভিন্ন দল থেকে ক্ষোভ-বিক্ষোভের জেরে নেতাদের দলত্যাগের প্রবণতা এবার আরও স্পষ্ট। এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় একসঙ্গে একাধিক নেতা ও প্রাক্তন পদাধিকারীর বিজেপিতে যোগদান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উপস্থিতিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। বিজেপির দাবি, যোগদানকারীদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই এবার পরিবর্তনের সূচনা হবে।”
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা বিজেপিকে নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়,
“অনেকেই বিভিন্ন স্তরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন—কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), কেউ বিপ্লব কুমার দেব (Biplab Kumar Deb), আবার কেউ সমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-র সঙ্গে আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করেই তাঁদের দলে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই এবং যাঁরা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, তাঁদেরই প্রাধান্য দিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
প্রথম দফায় বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
শৈবাল লাহিড়ী – ক্যানিং ১ ব্লকের তৃণমূলের বর্তমান ব্লক সভাপতি, প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষ ,
সিরাজউদ্দিন দেওয়ান – প্রাক্তন উপ-প্রধান ,
প্রতিমা সর্দার – প্রাক্তন প্রধান, হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত,
রফিক শেখ – জয়েন্ট কনভেনর, নিকারীঘাটা জিপি ,
আসমত মোল্লা – অঞ্চল সভাপতি, গোপালপুর জিপি,
নন্দকিশোর সর্দার – প্রাক্তন প্রধান, গোপালপুর ,
বদরুদ্দোজা শেখ – প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি ,
অর্ণব রায় – প্রাক্তন প্রধান, দিঘিরপুর ,
সঞ্জয় নস্কর – প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য।
এছাড়াও আরও একাধিক স্থানীয় নেতা-কর্মী—সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস ও ফণীভূষণ সর্দার—এই দলে যোগ দেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলায় এই ধরনের দলবদল নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026)-এর আগে এই ঘটনা বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভোটের মুখে দলবদলের এই প্রবণতা একদিকে যেমন শাসক দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়, তেমনই বিরোধী দলের পক্ষে সংগঠন বিস্তারের সুযোগও তৈরি করে। এখন দেখার, এই যোগদান ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।


