Saturday, February 28, 2026
Latestদেশ

কর্ণাটকের শিবমোগায় নাবালকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কর্ণাটকের শিবমোগা জেলার উর্গাদুর এলাকায় এক হিন্দু নাবালকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সহপাঠীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ বছর বয়সি সংকেত (নাম পরিবর্তিত)-এর। ঘটনায় কয়েকজন নাবালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। 

গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কর্ণাটকের শিবমোগা জেলার উরগাদুর এলাকায় ওই হিন্দু নাবালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। একদল ইসলামপন্থী নাবালক যুবকের মধ্যে ঝগড়ার সময় সে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৬ বছর বয়সী হিন্দু যুবক সংকেত (নাম পরিবর্তিত) নামে পরিচিত, তার বন্ধু গিরিশকে (নাম পরিবর্তিত) রক্ষা করার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ একদল ইসলামপন্থী গিরিশকে আক্রমণ করে।

কী ঘটেছিল?

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টা নাগাদ বিশেষ ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল সংকেত ও তার বন্ধু গিরিশ (নাম পরিবর্তিত)। অভিযোগ, স্কুলের পিছনের একটি খোলা মাঠে কয়েকজন কিশোর গিরিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ালে সংকেত মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই সময় সংঘর্ষে সংকেত গুরুতর আঘাত পায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সুলেবাইলু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে, যেখানে এসএসএলসি (দশম শ্রেণী) বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস হচ্ছিল।

পুলিশের বক্তব্য

শিবমোগ্গা জেলা পুলিশ সুপার বি. নিখিল (নাম অনুসারে) জানান, ঘটনায় জড়িত সবাই নাবালক। টুঙ্গা নগর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনও রকম অশান্তি না ছড়ায়।

পারিবারিক প্রতিক্রিয়া

সংকেতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংকেত পড়াশোনায় মনোযোগী ও নিয়মিত ছাত্র ছিল। বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যই সে বিশেষ ক্লাসে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর মা।

মঙ্গলবার সংকেতের বড় বোন সুপ্রিয়া বলেন, “ক্লাসের পর ছয়জন ছেলে তার ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। অঞ্চলে গাঁজার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অশালীন আচরণ করে। যদি ছয়জন অভিযুক্তকে শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আমার পুরো পরিবার আত্মহত্যা করবে।”

মৃতের মা মঞ্জুলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তান আমাকে বলেছে তার পরীক্ষা আছে এবং বিশেষ ক্লাসের জন্য গিয়েছিল। সে আমাকে এবং তার ঠাকুরমাকে বলে যায়। পরে, আমাকে হাসপাতালে আসতে বলা হয়েছিল, যেখানে ডাক্তাররা আমাকে বলেছিলেন যে সে আর নেই। আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে এখনও নেই। এখন, আমি তার বাবাকে কী বলব? আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, ”আমার ছেলে কখনও কারও ক্ষতি করার জন্য কিছু করেনি। সে এত ভালো সন্তান ছিল এবং আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সে পুরষ্কার জিতেছে এবং ভালো নম্বর পেয়েছে। সম্প্রতি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পর, আমি তাকে ১০০ টাকা দিয়ে উদযাপন করতে বলেছিলাম। সে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করত। সোমবারও সে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে সকাল ৭টা পর্যন্ত পড়াশোনা করত। আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর, সে আর ফিরে আসেনি। আমি কী বলব? আমি জানি না কী হয়েছে। আমরা কীভাবে আমাদের ছেলেকে ভুলতে পারি?”

শিবমোগা শহরের বিধায়ক চান্নাবাসপ্পা বলেন, “বিশেষ ক্লাসটি রাত ৯.৩০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ক্লাসের পরেই হামলাটি ঘটে। আমি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি, এবং তারা বলেছে যে ঝগড়া এবং হামলার ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটছে না। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত।”

উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। অতীতেও ওই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নজির রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে কিশোরদের মধ্যে সহিংসতা, মাদকাসক্তির অভিযোগ এবং ছাত্র নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কিশোর অপরাধ ও বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী পক্ষের তরফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: Telengana Today, Hindu Voice