শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা, গ্রেফতার ৪
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা জনসভাকে ঘিরে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই শনিবার কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির মিছিল থেকে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সূত্রের খবর, ব্রিগেডের সভায় যোগ দিতে বিজেপি সমর্থকদের একটি মিছিল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ধরে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের কাছে অবস্থিত শশী পাঁজার বাড়ির সামনে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মিছিল থেকে বাড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং বাড়ির বাইরে ভাঙচুর চালানো হয়।
তৃণমূলের দাবি, হামলায় শশী পাঁজার বাড়ির বাইরে থাকা গাড়ি ও কিছু সম্পত্তির ক্ষতি হয়। পাশাপাশি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রী নিজেও ওই সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই আগে হামলা চালায় এবং বিজেপি কর্মীদের উপর ইট-পাটকেল ছোড়ে, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এমনকি এক পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন বলে খবর।
কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক (Abhishek Banerjee) লিখেছেন, “এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর উপর হামলা নয়, বরং বাংলার নারীদের উপর আক্রমণের একটি নিন্দনীয় দৃশ্য। পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় বড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ব্রিগেডের সভাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ব্রিগেডের মতো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির দিন এমন ঘটনা সেই উত্তেজনাকেই আরও স্পষ্ট করে দিল।
এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক তরজা এখনও তুঙ্গে।


